পৃথিবী ও মহাবিশ্বের রেখাচিত্র – জুলাই-অক্টোবর ২০২৬
পরিবেশ বদলালে বদলায় আচরণ
ব্লু উইল্ডেবিস্টঃ গরমে থামে, জলের খোঁজে আবার ছুটতেও হয়

Blue wildebeest (Connochaetes taurinus) দক্ষিণ আফ্রিকার তৃণভূমি ও শুষ্ক savanna অঞ্চলের পরিচিত বড় তৃণভোজী প্রাণী। এরা মূলত ঘাস খায় এবং অন্যান্য কিছু অ্যান্টিলোপের তুলনায় জলের উপর বেশি নির্ভরশীল। ফলে বৃষ্টিপাত কমে গেলে এবং জলাশয় শুকিয়ে যেতে শুরু করলে তাদের সামনে একটি কঠিন সমস্যা তৈরি হয়—একদিকে প্রচণ্ড গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার জন্য চলাফেরা কমানো দরকার, অন্যদিকে জল ও খাদ্য পাওয়ার জন্য কখনও অনেক দূর যেতে হয়।
২০২৬ সালের Biological Conservation জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দক্ষিণ আফ্রিকার তিনটি ভিন্ন অঞ্চলে wildebeest-এর চলাফেরা পর্যবেক্ষণ করা হয়। গবেষকেরা GPS telemetry ব্যবহার করে একাধিক ঋতুচক্র ধরে তাদের movement pattern অনুসরণ করেন। তিনটি অঞ্চলের মধ্যে দুটি ছিল শুষ্ক Kalahari অঞ্চল, যেখানে বছরের নির্দিষ্ট সময়ে কাছাকাছি জল পাওয়া কঠিন হয়ে পড়ে; অন্যটি ছিল Kruger National Park, যেখানে সারা বছর তুলনামূলকভাবে সহজে surface water পাওয়া যায়।
জলাশয় শুকিয়ে গেলে শুরু হয় দীর্ঘ যাত্রা
Kalahari-র শুষ্ক অঞ্চলে wildebeest-এর স্বাভাবিক home range-এর মধ্যে থাকা জলাধার শুকিয়ে গেলে তাদের দূরের জলস्रोतের দিকে যেতে হয়। গবেষণায় GPS data থেকে দেখা গেছে, কিছু wildebeest এমন relocation movement করেছে যেখানে তাদের ১০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ অতিক্রম করতে হয়েছে। অর্থাৎ জলাভাবের সময় এই প্রাণীদের কাছে “একটু দূরে গিয়ে জল খাওয়া” ব্যাপারটি কখনও বিশাল এক যাত্রায় পরিণত হয়।
আরও আশ্চর্যের বিষয়, অত্যন্ত শুষ্ক পরিস্থিতিতে কিছু প্রাণী ২–৩ সপ্তাহ পর্যন্ত surface water না পেয়েও টিকে ছিল এবং এই সময়ে নিয়মিত চলাফেরা চালিয়ে গেছে। তবে এই দীর্ঘ যাত্রা যে সহজ ছিল না, তার প্রমাণও গবেষণায় রয়েছে। গবেষণাকালীন কিছু wildebeest-এর মৃত্যু ঘটেছিল; কয়েকটির ক্ষেত্রে dehydration-এর সম্ভাবনাও উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থাৎ খরা তাদের সামনে একটি অদ্ভুত পরিস্থিতি তৈরি করে:
জল কমে গেল → জল খুঁজতে দূরে যেতে হবে → কিন্তু দূরে যেতে হলে আরও শক্তি খরচ হবে।
প্রচণ্ড গরমে দিনের বেলা আবার কমে যায় চলাফেরা
তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে Kalahari-র wildebeest-রা দিনের বেলা তাদের displacement বা স্থান পরিবর্তনের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। বিশেষ করে যে দিনগুলিতে তারা দূরের জল বা অন্য সম্পদের সন্ধানে relocation করছিল, সেই দিনগুলিতে গরমের প্রভাব আরও স্পষ্ট ছিল।
এর কারণ খুব সম্ভবত heat stress বা অতিরিক্ত তাপের চাপ। বড় শরীরের প্রাণীদের ক্ষেত্রে প্রচণ্ড গরমে দীর্ঘ সময় হাঁটা বা দৌড়ানো শরীরের তাপমাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে চলাফেরা কমিয়ে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময় বেছে নেওয়া শরীরের জন্য সুবিধাজনক হতে পারে। গবেষণায়ও দেখা গেছে, wildebeest গরমের সময় তুলনামূলকভাবে cooler microclimate বেছে নেয়।
দিনের হাঁটা কমলে রাতে বাড়ে চলাফেরা
দিনের গরমে চলাফেরা কমানোর ফলে যদি খাদ্য সংগ্রহের সময় কমে যায়, তাহলে সেই ঘাটতি পূরণ করতে তারা রাতে বেশি সক্রিয় হতে পারে। ২০২৬ সালের গবেষণায় Kalahari-র wildebeest-দের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গরমের দিনে দিনের displacement কমার পাশাপাশি পরবর্তী রাতে nocturnal activity বা রাতের চলাফেরা বেড়ে যায়।
অর্থাৎ তাদের দৈনিক সময়সূচি কিছুটা বদলে যায়:
দিনের প্রচণ্ড গরম → কম চলাফেরা
তাপমাত্রা কমে রাত নামলে → বেশি চলাফেরা
এটি এক ধরনের behavioural thermoregulation—শরীরের উপর তাপের চাপ কমানোর জন্য আচরণের সময়সূচি বদলে ফেলা।
তবে এরও একটা মূল্য আছে। রাতে বেশি চলাফেরা করলে বড় শিকারিদের মুখোমুখি হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। গবেষকেরা তাই উল্লেখ করেছেন যে দিনের কম foraging time পূরণ করতে রাতের কার্যকলাপ বাড়ানো predation risk-ও বাড়াতে পারে।
Blue wildebeest-কে এই দুই বিপরীত চাহিদার মধ্যে একটা ভারসাম্য তৈরি করতে হয়। দূরের জল খোঁজার জন্য দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হবে, কিন্তু দিনের সবচেয়ে গরম সময়ে সেই পথ অতিক্রম করা যাবে না। তাই তারা দিনের চলাফেরা কমিয়ে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা সময়ে, বিশেষত রাতে, কার্যকলাপ বাড়াতে পারে।
পুরনো গবেষণাতেও একই প্রবণতার ইঙ্গিত
২০২১ সালের Scientific Reports গবেষণায় Kalahari অঞ্চলের wildebeest এবং arid-adapted gemsbok-এর আচরণ তুলনা করা হয়েছিল। খরার সময় wildebeest-এর মোট ২৪ ঘণ্টার activity প্রায় ৩৬% কমে যায়, কিন্তু একই সময়ে তারা দীর্ঘ দূরত্বের movement বাড়ায়। গবেষণায় একটি wildebeest-এর মাত্র তিন দিনে প্রায় ৮০ কিলোমিটার অতিক্রম করে Nossob River-এর দিকে যাওয়ার ঘটনাও নথিভুক্ত হয়েছিল।
অর্থাৎ মোট চলাফেরা কমলেও নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে দীর্ঘ-distance journey বাড়তে পারে। বাইরে থেকে দেখলে ব্যাপারটি পরস্পরবিরোধী মনে হলেও আসলে তা নয়, স্থানীয়ভাবে ঘোরাঘুরি কমিয়ে প্রাণীটি যখন সম্পদের সন্ধানে বেরোয়, তখন একবারে অনেকটা পথ অতিক্রম করতে পারে।
২০১৯ সালের আরেকটি গবেষণায়ও দেখা গিয়েছিল, শুষ্ক মৌসুমে স্থানীয় জলস्रोत শুকিয়ে গেলে wildebeest-কে surface water-এর জন্য দীর্ঘ দূরত্ব অতিক্রম করতে হয়।
