Life Science-জীববিজ্ঞানPopular Science-জনপ্রিয় বিজ্ঞানই-পত্রিকা জুলাই-অক্টোবর ২০২৬ সংখ্যা

পৃথিবী ও মহাবিশ্বের রেখাচিত্র – জুলাই-অক্টোবর ২০২৬

Borago officinalis বা বোরেজ একটি মৌমাছি-পরাগায়িত উদ্ভিদ। এর ফুলে থাকা nectar বা মধুরস পরাগবাহীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য। তাই পরিবেশের তাপমাত্রা ও মাটির জলের পরিমাণ বদলে গেলে শুধু গাছের বৃদ্ধি নয়, ফুলের সংখ্যা, আকার, nectar ও pollen-এর গুণমান এবং পরাগবাহীদের ফুলে আসার প্রবণতাও বদলাতে পারে।

২০১৮ সালে Ecology and Evolution জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা বোরেজ গাছকে তিনটি তাপমাত্রা—২১°C, ২৪°C ও ২৭°C—এবং দুটি জলপ্রাপ্যতার অবস্থায়, অর্থাৎ পর্যাপ্ত জল ও জলস্বল্পতা, পাঁচ সপ্তাহ ধরে বড় করেন। এর উদ্দেশ্য ছিল তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও জলাভাব একসঙ্গে ফুল ও পরাগবাহীদের মিথস্ক্রিয়াকে কীভাবে বদলে দেয় তা বোঝা।

জলস্বল্পতার সবচেয়ে স্পষ্ট প্রভাব দেখা যায় ফুলের সংখ্যায়। পর্যাপ্ত জল পাওয়া গাছে গড়ে প্রতি গাছে ১৫ ± ২টি ফুল পাওয়া গেলেও জলস্বল্পতার ক্ষেত্রে তা কমে দাঁড়ায় ৮ ± ১টি ফুলে। অর্থাৎ জলাভাবের কারণে ফুলের উৎপাদন প্রায় অর্ধেক হয়ে যায়।

ফুলের আকারও বদলায়। পর্যাপ্ত জল ও ২১°C তাপমাত্রায় corolla বা ফুলের পাপড়ির বিস্তৃত অংশের ক্ষেত্রফল ছিল প্রায় ৩.৮ cm²। কিন্তু ২৭°C তাপমাত্রা এবং জলস্বল্পতার যৌথ চাপে তা নেমে আসে প্রায় ২.২ cm²-এ।

সবচেয়ে আকর্ষণীয় পরিবর্তন ঘটে ফুলের nectar বা মধুরসে। গবেষণায় দেখা যায়, তাপমাত্রা বাড়া এবং জলস্বল্পতা—দুটিই nectar উৎপাদন কমায়। ২১°C তাপমাত্রায় পর্যাপ্ত জল পাওয়া গাছে প্রতি ফুলে মোট sugar-এর পরিমাণ ছিল প্রায় ৩.৯ mg। কিন্তু ২৭°C তাপমাত্রায় জলস্বল্পতার শিকার গাছে তা কমে হয় মাত্র ১.৩ mg। অর্থাৎ প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ কমে যায়।

এখানে একটি মজার বিষয় হল, ২৭°C তাপমাত্রায় nectar-এর sugar concentration বরং তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। কিন্তু ফুলে মোট nectar-এর পরিমাণ এতটাই কমে যায় যে শেষ পর্যন্ত একটি ফুল থেকে পরাগবাহী পোকা যে মোট পরিমাণ চিনি পেতে পারে, তা অনেক কমে যায়। গবেষণায় ২৭°C-এ মোট nectar sugar ২১°C-এর তুলনায় প্রায় চার গুণ কম ছিল।

তাপমাত্রা ও জলস্বল্পতার প্রভাবে pollen-এর মোট সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেনি, কিন্তু pollen viability, অর্থাৎ পরাগরেণুর কার্যকরভাবে নিষেক ঘটানোর সক্ষমতা, কমে যায়। পর্যাপ্ত জল ও ২১°C তাপমাত্রায় pollen viability ছিল প্রায় ৭৯%। ২৭°C-এ তা ৬০%-এর নিচে নেমে যায়, আর একই সঙ্গে জলস্বল্পতা থাকলে তা প্রায় ২৫% পর্যন্ত কমে যায়। অর্থাৎ পরিবেশগত চাপের প্রভাব এখানে শুধু “ফুল কমে যাওয়া”-য় সীমাবদ্ধ নয়, ফুলের খাদ্য হিসেবে nectar-এর পরিমাণ এবং প্রজননের জন্য pollen-এর কার্যকারিতা, দুটিই বদলে যাচ্ছে।

ফুলের এই পরিবর্তনের সঙ্গে পোকাদের আচরণেও পরিবর্তন দেখা যায়। গবেষণায় দেখা যায়, ২১°C তাপমাত্রায় পর্যাপ্ত জল পাওয়া বোরেজ গাছে অন্য পরীক্ষাগুলির তুলনায় অন্তত দ্বিগুণ বেশি bumblebee visit করেছিল। অর্থাৎ যে গাছের ফুল বেশি এবং nectar-এর পুরস্কারও বেশি, সেই গাছ পরাগবাহী পোকাদের কাছে বেশি আকর্ষণীয় ছিল।

গবেষকদের বিশ্লেষণে flower visitation-এর সঙ্গে nectar production-এর ইতিবাচক সম্পর্ক পাওয়া যায়। সহজ করে বললে, ফুলের nectar যত বেশি আকর্ষণীয় বা বেশি পরিমাণে পাওয়া যাচ্ছে, পোকাদের সেখানে যাওয়ার সম্ভাবনাও তত বেশি।

এখানে পরিবেশ পরিবর্তনের প্রভাবটা তাই একটি চক্রের মতো:

গরম/জলস্বল্পতা → কম ফুল ও কম nectar → ফুলের আকর্ষণ কমে যাওয়া → কম pollinator visit → সম্ভাব্যভাবে কম পরাগায়ন।

তবে শেষ ধাপটিকে সরাসরি প্রমাণিত ফল হিসেবে না লিখে “সম্ভাব্য প্রভাব” বলা ভালো, কারণ ওই গবেষণাটি মূলত ফুলের বৈশিষ্ট্য ও insect visitation পরীক্ষা করেছিল; সরাসরি seed production বা চূড়ান্ত reproductive success মাপাই ছিল না।

তথ্যসূত্রঃ-