Life Science-জীববিজ্ঞানPopular Science-জনপ্রিয় বিজ্ঞানই-পত্রিকা জুলাই-অক্টোবর ২০২৬ সংখ্যা

নিকুজ্ঞ পাখির প্রেম – পিরীতি

সাধারণত পাখিরা বাসা বা নীড় তৈরি করে ডিম পাড়ে। তা দিয়ে ডিম ফুটে বাচ্চা বের হলে তাদের যত্ন-আত্তি করে বড় করে তোলে। কিন্তু পুরুষ বাওয়ারবার্ড তার জন্য বাওয়ার তৈরি করে না। আসলে বাওয়ারকে সেই অর্থে ঠিক নীড় বা বাসা বলা যায় না, বরং কুঞ্জ বলা চলে। এই নিয়ে অনেকের মধ্যে একটা ভুল ধারণা আছে। এদের বেলায় স্ত্রী পাখিই বাচ্চা তৈরির জন্য বাসা তৈরি করে। এই প্রসঙ্গে পরে আসছি।

পুরুষ পাখির তৈরি কুঞ্জ শুধু সঙ্গী নির্বাচন ও যৌন মিলনের ক্ষেত্র। তাই একে বাসরঘর বলাই ভালো। সাধারণত পুরুষ বাওয়ার পাখির নীড় বা কুঞ্জ মাটিতেই হয়ে থাকে। ছোট ছোট গাছের ডালপালা দিয়ে বানানো বাসাটি অনেকটা তাঁবুর আকৃতির। কুঞ্জ বানানোর পুরো কৃতিত্ব পুরুষ পাখিটির।

বিভিন্ন প্রজাতি নানা রঙের জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজাতে ব্যস্ত | ছবিঃ গুগুল

কুঞ্জের কাঠামো দাঁড় করানোর পর আসে এটিকে সাজানোর পালা। সঙ্গিনীকে আকৃষ্ট করার জন্য পুরুষ পাখিটি কুঞ্জের সামনেই দাওয়ায় সাজিয়ে রাখে নানা ধরনের তাজা ফুল, রঙিন লতা-পাতা, রঙিন পালক, মৃত গোবরের পোকা, বীজ, কাঁচের টুকরো, নুড়ি, শামুকের খোলস, শেওলা প্রভৃতি। তাছাড়া মানুষের ফেলে দেওয়া রঙিন কাপড়, প্লাস্টিক, স্ট্র, অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল, আরও কত কী!

মানুষ যেমন বাড়ির সামনে বিভিন্ন কিছু দিয়ে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখে, তারাও তেমনি করে। ঘরেও কার্পেটের মতো মেঝেতে কত কিছু বিছায়। বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, বিভিন্ন প্রজাতি নানা রঙের জিনিসপত্র দিয়ে ঘর সাজাতে পছন্দ করে। যেমন Spotted bowerbirds (Chlamydera maculata) হলুদ, লাল এবং নীল রঙের জিনিস; আবার Green catbird (Ailuroedus crassirostris) সবুজ রং এবং Satin bowerbirds (Ptilonorhynchus violaceus) নীল রং বেশি পছন্দ করে।

স্যাটিন বাওয়ারবার্ড বা Satin bowerbirds (Ptilonorhynchus violaceus) নীল রং বেশি পছন্দ করে। এখানে কাঠি ও অন্যান্য বস্তু ব্যবহার করে একটি “অ্যাভিনিউ” (avenue) ধরনের বাওয়ার বা সাজানো প্রজনন-স্থাপনা তৈরি করছে। | ছবিঃ www.britannica.com

এ যেন শুধু কুঞ্জ নয়, মনে হবে যেন — ‘সিডাকশন পার্লার’। সঙ্গিনীদের কাছে আবেদন জানাতে তাদের কুঞ্জে দৃষ্টিশক্তির বিভ্রম তৈরি করার জন্য আঙিনায় ছোট থেকে বড় জিনিসগুলিকে সাজিয়ে রাখে। দেখা গেছে, এমনভাবে সাজানো জিনিসের সঙ্গে পুরুষদের মিলনের সাফল্যের সম্ভাবনা বেশি। তিন ফুট উঁচু আর পাঁচ ফুট জায়গা জুড়ে চওড়া এই কুঞ্জটি এক দর্শনীয় ব্যাপার! আর কোনো পাখি এত সুন্দর করে নিকুঞ্জ বানায় না।

নিকুঞ্জের সৌন্দর্যে বিমোহিত সঙ্গিনীটি ধীরে ধীরে বাসার ভিতরে প্রবেশ করে। এই প্রবেশের মধ্য দিয়েই শুরু হয় তাদের নতুন আরেকটি প্রজন্মকে পৃথিবীতে নিয়ে আসার প্রথম ধাপ। অনুসন্ধান করে দেখা গেছে, এই বাওয়ারগুলি একাধিক প্রজন্মের পুরুষদের দ্বারা তৈরি করা। যখন একজন পুরুষ পাখি মারা যায় বা অন্যত্র চলে যায়, তখন অন্য আরেকজন তার উত্তরাধিকারী হিসেবে কুঞ্জে জায়গা করে নেয়। প্রায় ৪০ বছরের পুরোনো, ৬.৫ ফুটের মতো উঁচু বাওয়ারগুলিরও খোঁজ মিলেছে। স্বাভাবিক অবস্থায় একজন পুরুষের কুঞ্জ তৈরি করতে এক সপ্তাহ থেকে দুই মাস সময় লাগে। এই সময়টা নির্ভর করে সে আগের ব্যবহার করা একটি কাঠামো মেরামত করছে, নাকি নতুন বানিয়েছে।

পুরুষ বাওয়ারবার্ডরা তাদের গানের প্রতিটি ডাক বা কলের নোট নিখুঁত পিচে করে। তাতে বিচক্ষণ স্ত্রী পাখি সহজেই আকৃষ্ট হয়। গত বছরের অক্টোবর মাসে ‘বিহেভিয়ারাল ইকোলজি’ জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা থেকে এরকম তথ্যই জানা যায়। ভিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতিবিদ ক্লিওধনা কুইগলি বলেছেন, এই গবেষণার অনুসন্ধানগুলি বেশ অর্থবহ।

পুরুষরা তাদের জায়গার বিজ্ঞাপন দেয় একটি উচ্চস্বরে আহ্বানের সঙ্গে। স্ত্রী পাখিকে কুঞ্জের কাছে দেখলে পুরুষটি বিভিন্নভাবে দৃষ্টি আকর্ষণের মরিয়া চেষ্টা করে। এ সময় সে বিভিন্ন শব্দ করে স্ত্রী পাখিকে ঘরে আসার জন্য ডাকে। যখন স্ত্রী পাখিটি প্রবেশদ্বারে আসে, তখন পুরুষটি আঙিনায় উড়ে এসে ধাক্কাধাক্কি শুরু করে, সুরেলা কণ্ঠে গান গাইতে থাকে। তখন পুরুষ ডানা মেলে নাচতেও শুরু করে ও বিভিন্ন উপহার যেমন ফুল, ফল, লতাপাতা ইত্যাদি তুলে নেয় ও স্ত্রী পাখিকে দেখায়। পুরুষ পাখিটি চঞ্চুতে উপহার এনে বলে, সঙ্গিনী, দেখ কী নিয়ে এসেছি তোমার জন্য! ধরা দাও, প্রিয়তমা!

এদের জুটি বাঁধার চাবিকাঠি কিন্তু স্ত্রী পাখির হাতেই। তবে এই ধরা পড়াটা এত সহজ নয়। স্ত্রী পাখি বলে কথা, সে ভাবনায় ভাসতে ভাসতে সিদ্ধান্ত নেয় যাব কি যাব না — বাসরঘর পছন্দ হলেও রয়ে যায় কিছু সংশয়। অনেকটা বাসরঘরে ঢোকা কুমারীর মতো ধীর-ভীতু পায়ে এগিয়ে চলে। আরেকবার সবকিছু পরখ করে দেখে নেয়—একদম ফাইনাল ইনকোয়ারি। তারপর সঁপে দিলে একেবারেই দিয়ে দেয়। তাদের দাম্পত্য জীবন শুরু হয় মিলনের মাধ্যমে।

ডেকিন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৃতিবিদ এন্ডালার ও সহকর্মীরা ১৯৯৮ সাল থেকে এই বাওয়ারবার্ডদের প্রেম-প্রীতির অনুষ্ঠান নিয়ে গবেষণা করছেন। নিকুঞ্জের গঠনশৈলী ও সাজসজ্জার ওপর পাখির ডাকের কোনো শব্দ বা ডাকার ভূমিকা আছে কি না, এই নিয়ে ভাবনাচিন্তা শুরু করেন। এর আগেও বেশিরভাগ গবেষণা হয়েছে এদের প্রেম-প্রীতির আচরণকে ঘিরে। সেসব গবেষণা ছিল মূলত চাক্ষুষ দিকগুলি নিয়ে। কিন্তু এই গবেষণায় পাখিদের ডাকগুলির কলাকৌশল ও তার পিছনে কারণগুলি নিয়ে অনুসন্ধান করা হয়েছে।

এন্ডালার ও সহকর্মীরা অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের একটি ইউক্যালিপটাসের জঙ্গলে পুরুষ গ্রেট বাওয়ারবার্ডদের ডাক রেকর্ডিং করেছিলেন। এরপর তারা কুঞ্জের অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথের দিকে লক্ষ্য করে স্পিকার দিয়ে রেকর্ড করা ডাক বাজিয়েছিলেন। স্ত্রী পাখি যে জায়গায় বসে, এমন জায়গায় মাইক্রোফোনের সঙ্গে কলতান রেকর্ড করা হয়েছিল।

গবেষক দলটি পদ্ধতিগতভাবে বিভিন্ন ধরনের কুঞ্জের সাজসজ্জা সরিয়ে দেখেছে, প্রতিটি জিনিস কীভাবে কুঞ্জের ভিতরে শব্দের কম্পাঙ্ক বা শব্দের মানকে প্রভাবিত করে। পুরুষ গ্রেট বাওয়ারবার্ড চমৎকার শব্দ প্রকৌশলী। অ্যাভিনিউয়ের আকৃতির ধরন পুরুষদের গান স্ত্রী পাখির কাছে আরও বেশি জোরে পৌঁছায়। কুঞ্জের অলংকরণগুলি ধ্বনিতত্ত্বকেও প্রভাবিত করে, ঘরের ভিতরে শোনা শব্দের কম্পাঙ্ককে বাড়িয়ে তোলে।

শুধু বাওয়ারবার্ডই একমাত্র প্রাণী নয়, যারা শব্দকে জোরে শোনার জন্য উপযোগী কাঠামো তৈরি করে। এক প্রকার পোকা, যেমন মোল ক্রিকেটরা, গর্ত খুঁড়ে, যা তাদের ধ্বনির জন্য মেগাফোনের মতো কাজ করে। আবার আরও কিছু প্রজাতি যেমন কাঁচপোকা ও রকেট ব্যাঙ তাদের আশপাশের বৈশিষ্ট্যগুলিকে বেশি জোরে শব্দের জন্য কাজে লাগায়। তবে গ্রেট বাওয়ারবার্ডদের ইঞ্জিনিয়ারিং অসাধারণ, কারণ এটি কুঞ্জের ভিতরে স্ত্রী পাখির জন্য এক বিশেষ ‘সাউন্ড এফেক্ট’ তৈরি করে।

বাওয়ারপাখির কণ্ঠস্বরের বিস্তৃত পরিসর আছে। কেউ কেউ উচ্চস্বরে বা হিস্‌হিস্‌ বা বকবক করে। এরা পরিবেশের অন্যান্য স্থানীয় প্রজাতির পাখির ডাকেরও নকল করতে পারে। আবার ম্যাকগ্রেগর বাওয়ারবার্ডকে শূকর, জলপ্রপাত বা মানুষের বকবক নকল করতেও জানা গেছে। পুরুষ ও স্ত্রী পাখি উভয়েই শিকারি পাখির শব্দ নকল করতে বেশ পটু।

পুরুষের নৃত্য প্রদর্শন, কুঞ্জের সূক্ষ্ম নির্মাণ ও ধ্বনিবিদ্যা একত্রিত হয়ে স্ত্রী পাখির কাছে এক সংবেদনশীল সংকেত বা বার্তা পাঠায়। এই শ্রুতিমধুর গানের সঙ্গে সঙ্গী হিসাবে তার মূল্যের বিজ্ঞাপন দেয়। স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে পুরুষ নানা রকম উপহার দেয়, তা তো আগেই বলা হয়েছে; তার মধ্যে নানা রকম ফলও আছে। কিন্তু তা কুঁচকে গেলে তা ছুড়ে ফেলে দেয়। এটাও একটা সংবেদনশীল অভিজ্ঞতা, যা তার ভালোবাসাকে বেশি করে জানান দেয়। মনে হয় যেন সিনেমার শো চলাকালীন তাকে একটু জলখাবার দেওয়া হয়েছে, যেন সিনেমার আসনে তারা পপকর্ন পেয়েছে।

সাধারণত সঙ্গী খোঁজার জন্য স্ত্রী পাখিরা একাধিক পুরুষের কাছে যায়, কুঞ্জের গুণমান পরখ করে দেখে ও শেষে পছন্দের কুঞ্জের পুরুষের কাছে ফিরে আসে। পাখিদের জোটবন্ধন তৈরি হলে তারা সঙ্গম করে ও কিছুক্ষণ পর স্ত্রী পাখিটি চলে যায়। পুরুষ বহুগামী হলে স্ত্রী পাখিটি যদি অনেকক্ষণ কুঞ্জে বসে থাকে, তবে পুরুষ তাকে তাড়িয়ে দিতে পারে। সে তখন তার কুঞ্জটি গুছিয়ে নেয় ও পরবর্তী নাচ-গানের রুটিনের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করে। সে তখন অন্য সঙ্গীকে আকর্ষণ করার জন্য অপেক্ষা করে। আবার পুরুষ একগামী হলে নির্বাচিত স্ত্রীর সঙ্গে অনেকবার সঙ্গমে লিপ্ত হয় ও স্ত্রী পরের বছর সেই পুরুষের কাছেই ফিরে আসে।

Ptilonorhynchidae বংশের বাওয়ারবার্ডের কুড়িটি প্রজাতির মধ্যে তিনটি একগামী প্রজাতি ছাড়া বাকি সবগুলিই বহুগামী। স্ত্রী পাখিরা এমন পুরুষ পাখিদের সঙ্গে সঙ্গম করতে পছন্দ করে, যাদের খুব সুগঠিত ও ভালো সাজানো-গোছানো বাওয়ার থাকে। সঙ্গম হয় বাওয়ারের মধ্যে বা তার কাছাকাছি। গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ সাটিন বাওয়ারবার্ড প্রায়শই অন্যান্য পুরুষদের বাওয়ার ধ্বংস করে। বাওয়ারের কাছাকাছি খাওয়ার জায়গাতে তারা এই কাণ্ডটি করে থাকে। প্রতিযোগী যৌন সঙ্গীদের তাড়িয়ে দেওয়ার জন্যই হয়তো এটি করে।

গবেষণায় দেখা গেছে, কুঞ্জের গঠন ও পালকের রঙের উজ্জ্বলতার মধ্যে একটি বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে। এই নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ আছে।

ম্যাক্স প্ল্যাঙ্ক ইনস্টিটিউট অফ অর্নিথোলজির আচরণগত জীববিজ্ঞানী নাও ওটা বলেছেন, স্ত্রী পাখিরা কীভাবে উচ্চস্বরে বিভিন্ন ফ্রিকোয়েন্সির গানে সাড়া দেয়, তা দেখা পরবর্তী গবেষণার বিষয় হতে পারে। বাওয়ারের জ্যামিতিক গঠন অ্যাভিনিউয়ের প্রবেশপথে একটি সীমিত অঞ্চলে পরিণত হয়; সেখানে তার কণ্ঠস্বর সবচেয়ে তীব্রতার সঙ্গে শোনা যায়। গবেষণা থেকে জানা যায়, কুঞ্জের সজ্জা একদিকে যেমন কিছু ফ্রিকোয়েন্সির তীব্রতা বাড়ায়, আবার অন্যগুলির তীব্রতা কমায়। তাই কুঞ্জের গঠন একই সঙ্গে চাক্ষুষ এবং শ্রবণ উভয়কেই প্রভাবিত করে ও যৌন নির্বাচনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

যৌন মিলনের পর স্ত্রী পাখি একটি ঝোপ বা গাছের গর্তে নির্জন জায়গায় কাপ-আকৃতির বাসা বানায়। বাসাটি স্ত্রী পাখি একাই তৈরি করে। স্ত্রী পাখিটি সেখানে ডিম পাড়ে। প্রজাতি অনুসারে তারা এক থেকে তিনটি বাদামি, ধূসর, বেগুনি রঙের ডিম পাড়ে; তার ওপর কালো ডোরাকাটা দাগ দেখা যায়। ১২ থেকে ১৫ দিন ধরে ডিমে তা দেয়। স্ত্রী পাখি বাচ্চাদের খাওয়ানো, পরিচর্যা ইত্যাদি সবকিছুই করে। ডিম থেকে বাচ্চা ফুটে বেরোতে প্রায় তিন সপ্তাহ সময় লাগে। মা পাখি দুই থেকে তিন মাস বাচ্চাদের যত্ন নেয়। তারপর বাচ্চারা বড় হলে নিজেরাই চলে যায়।

বাবা হিসাবে পুরুষ পাখির কোনো দায়িত্ব পালন করতে হয় না। যৌন মিলন ছাড়া তাদের আর কোনো ভূমিকা নেই। স্ত্রী পাখিরা পছন্দের সঙ্গী দ্বারা কেবল জেনেটিক সুবিধা লাভ করে। তবে ব্যতিক্রম অবশ্যই আছে, যেমন White-eared catbird (Ailuroedus buccoides), Black-capped catbird (Ailuroedus melanocephalus) ও Green catbird (Ailuroedus crassirostris) — এই ক্ষেত্রে পুরুষদের ছানাদের যত্ন নিতে সহায়তা করতে দেখা যায়।

গবেষকরা এই পাখিদের জটিল সঙ্গমের আচরণ, কুঞ্জের সাজসজ্জা, পুরুষ পাখির বাহারি সুন্দর রং — এই সব কিছুর জন্য আচরণগতভাবে বিশেষ প্রজাতি হিসাবে বিবেচনা করেন। কোনো একটি প্রজাতির বিশেষ আচরণ শরীরের বাইরের সৌন্দর্য বা ফেনোটাইপ যৌন নির্বাচনে ভূমিকা পালন করতে পারে। তাদের যৌন জীবনের আচরণ চার্লস ডারউইনেরও নজর কেড়েছিল। তাই তাঁর লেখায় বাওয়ারবার্ড এবং বার্ড অব প্যারাডাইস — উভয় বিষয়েই আলোকপাত করেছেন।


বিশ্ব রঞ্জন গোস্বামী

বিজ্ঞান লেখক। অবসর প্রাপ্ত সরকারী আধিকারীক, পশ্চিম বঙ্গ সরকার   সদ্যস, জীব বৈচিত্র সংরক্ষন একাডেমি, কলকাতা ও বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটি।