Life Science-জীববিজ্ঞানPopular Science-জনপ্রিয় বিজ্ঞানই-পত্রিকা জুলাই-অক্টোবর ২০২৬ সংখ্যা

পৃথিবী ও মহাবিশ্বের রেখাচিত্র – জুলাই-অক্টোবর ২০২৬

ছবির সূত্রঃ en.wikipedia.org/wiki/Diamondback_moth

ডায়মন্ডব্যাক মথ বা Diamondback moth (Plutella xylostella) বাঁধাকপি, ফুলকপি, সর্ষে-সহ বিভিন্ন Brassica ফসলের একটি গুরুত্বপূর্ণ কীট। এই ছোট মথটির জীবনযাত্রায় তাপমাত্রা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে তাপমাত্রা শুধু তার বৃদ্ধি বা প্রজননের গতিই বদলায় না—তার স্থান পরিবর্তন বা migration-এর প্রবণতাও প্রভাবিত করতে পারে।

২০২৪ সালে Pest Management Science–এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় বিজ্ঞানীরা দেখেছেন, লার্ভা অবস্থায় তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ক্রমশ ৩০°C-এর ওপরে বাড়তে থাকলে পরবর্তী পূর্ণবয়স্ক মথের আচরণে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন ঘটে। ২৪°C তাপমাত্রায় ক্রমাগত বেড়ে ওঠা মথের তুলনায় উষ্ণতর পরিবেশের অভিজ্ঞতা পাওয়া মথগুলির take-off propensity, অর্থাৎ উড়ে ওঠার প্রবণতা বেশি ছিল। তাদের flight capacity-ও বেশি ছিল।

এখানে আরও চমকপ্রদ বিষয় হল, শুধু আচরণই বদলায়নি, শরীরের প্রজনন-সংক্রান্ত বিকাশও বদলেছে। লার্ভা অবস্থায় তাপমাত্রা ২৪°C থেকে ৩০°C-এর বেশি হওয়ার দিকে বাড়লে স্ত্রী মথের oogenesis, অর্থাৎ ডিম্বাণু তৈরির প্রক্রিয়া, বিলম্বিত হয়। অর্থাৎ পূর্ণবয়স্ক হওয়ার পর তাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রজনন প্রক্রিয়া পিছিয়ে যায়। গবেষকদের পরীক্ষায় দেখা যায়, এই উষ্ণতা-অভিজ্ঞতার সঙ্গে প্রজননক্ষমতার পরিবর্তন এবং বেশি উড়ে যাওয়ার প্রবণতার মধ্যে একটি সম্পর্ক রয়েছে।

সহজভাবে বললে, পরিবেশ যখন প্রতিকূল হয়ে উঠছে, তখন মথের শরীর যেন “এখানে থেকে এখনই প্রজনন করার বদলে অন্যত্র যাওয়ার” দিকে বেশি ঝুঁকছে। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যায় এটি একটি migration strategy-র অংশ হতে পারে— স্থানীয় পরিবেশ খারাপ হলে অপেক্ষাকৃত উপযুক্ত পরিবেশের সন্ধানে অন্যত্র চলে যাওয়া। তবে এটিকে মানুষের মতো সচেতন সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়; বরং তাপমাত্রাজনিত শারীরবৃত্তীয় পরিবর্তনের সঙ্গে আচরণগত প্রতিক্রিয়ার সম্পর্ক হিসেবে দেখা উচিত।

চীনের একটি field population-এও গবেষকরা বসন্ত থেকে গ্রীষ্মে যাওয়ার সময় মথের population-এর পরিবর্তন লক্ষ্য করেন। মে মাসের শেষের দিকে স্থানীয় population কমতে শুরু করে এবং একই সময়ে তুলনামূলকভাবে বেশি সংখ্যক sexually immature female দেখা যায়। গবেষণাটি থেকে বিজ্ঞানীরা অনুমান করেন যে এই সময়ে emigration, অর্থাৎ স্থান ত্যাগের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল।

অন্য গবেষণাগুলিও দেখিয়েছে যে তাপমাত্রা P. xylostella–র জীবনচক্র ও প্রজননে গভীর প্রভাব ফেলে। ১৫°, ২০°, ২৫° এবং ৩০°C তাপমাত্রায় করা একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রজননের জন্য ২০°C তুলনামূলকভাবে অনুকূল ছিল এবং তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে বিভিন্ন fitness parameter বদলে যায়।

আরও একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ১৫–৩৫°C-এর মধ্যে তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে স্ত্রী মথের egg production বা fecundity কমতে পারে; ৩৫°C-এ তা বিশেষভাবে কমে যায়। অর্থাৎ তাপমাত্রার পরিবর্তন এখানে একসঙ্গে দুটি বিষয়কে প্রভাবিত করতে পারে, প্রজনন এবং dispersal/flight behaviour। বেশি তাপের চাপের মধ্যে মথের প্রজনন-সংক্রান্ত বিনিয়োগ কমে যাওয়ার সঙ্গে স্থান পরিবর্তনের প্রবণতা বাড়তে পারে। গবেষণাটির ভাষায়, এই পরিবর্তনের সঙ্গে “migration propensity” বাড়লেও reproductive output-এর মূল্য দিতে হয়।

এই ছোট্ট মথটির ঘটনা দেখায় যে পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব সবসময় সরাসরি “মরে যাওয়া” বা “বেঁচে থাকা”-র মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তাপমাত্রা বদলালে প্রাণী তার জীবনযাত্রার কৌশলও বদলাতে পারে। এখানে উষ্ণতার অভিজ্ঞতা পরবর্তী প্রজন্মের পূর্ণবয়স্ক মথের শরীর ও আচরণ, দুই ক্ষেত্রেই পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। ফলে জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে কীটপতঙ্গের কোথায় থাকবে, কখন প্রজনন করবে এবং কখন অন্যত্র ছড়িয়ে পড়বে, এসবও বদলে যেতে পারে।

তথ্যসূত্রঃ-