বিজ্ঞানের টুকিটাকি – জুলাই-অক্টোবর ২০২৬
মন্টেজুমা ওরোপেন্ডোলা উলটো হয়ে ঝুলে গান গায়
-অর্ণব –

মধ্য আমেরিকার অরণ্য ও ফলের বাগানের ওপর দিয়ে ভেসে আসে পৃথিবীর অন্যতম অদ্ভুত পাখির ডাক। এই অদ্ভুত সুরের মালিক হল পুরুষ মন্টেজুমা ওরোপেন্ডোলা (Montezuma oropendola, Psarocolius montezuma)।
মন্টেজুমা ওরোপেন্ডোলা-র vocalisation বেশ বৈচিত্র্যময়। তার ডাক শুনলে সাধারণ পাখির গান বলে মনে হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। একটানা ঝনঝন শব্দ, খরখরে rattling এবং গরগর বা গড়গড়ে gurgling শব্দ মিলিয়ে তার vocalisation-এর মধ্যে এক ধরনের অদ্ভুত ধাতব সুর শোনা যায়।
কিন্তু তার গানের চেয়েও বিস্ময়কর হল গান গাওয়ার ভঙ্গি!
পুরুষ ওরোপেন্ডোলা কখনও কখনও সে স্ত্রী পাখিটিকে আকৃষ্ট করার জন্য শরীরকে সামনের দিকে ঝুঁকিয়ে দেয়, কখনও নিজের বসার ডাল থেকে এমনভাবে ঝুলে পড়ে যে তার মাথা নিচের দিকে চলে আসে, তারপর শরীরকে জোরে জোরে দোলাতে দোলাতে সে বিশেষ ধরনের ডাক বা গান করে। তারপর আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে এবং পুনরায় display করতে পারে। দেখতে মনে হয় যেন কোনও পাখি নয়, বরং বাতাসে দুলতে থাকা এক avian trapeze artist!
এই আচরণকে display posture হিসেবে দেখা হয়, অর্থাৎ শরীরের ভঙ্গি, নড়াচড়া এবং vocalisation – সব মিলিয়ে স্ত্রীকে আকৃষ্ট করার একটি জটিল আচরণ। অর্থাৎ স্ত্রী পাখির কাছে বার্তাটি অনেকটা এমন: “আমার গান শুনুন, আর আমার এই কসরতটাও দেখুন!” সম্ভবত এই অদ্ভুত শারীরিক প্রদর্শন তার গানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে এবং স্ত্রী পাখিকে আকৃষ্ট করতে সাহায্য করে।
অবশ্য মন্টেজুমা ওরোপেন্ডোলা একমাত্র পাখি নয় যারা সঙ্গীকে আকৃষ্ট করার সময় উলটো হয়ে ঝোলে। বেশ কয়েকটি birds of paradise-ও সম্ভাব্য সঙ্গীর সামনে নিজেদের প্রদর্শন করার সময় এমন ভঙ্গি গ্রহণ করে। তবে তাদের ডাক সাধারণত অনেক বেশি কর্কশ বা croak-এর মতো। সেই তুলনায় ওরোপেন্ডোলার জটিল ও বৈচিত্র্যময় vocal performance সত্যিই আলাদা।

উঁচু গাছ → ঝুলন্ত বাসা → অদ্ভুত ডাক → আর courtship-এর সময় মাথা নিচে করে ঝুলে থাকা পুরুষ পাখি।
অর্থাৎ পাখিটির প্রেম নিবেদনের পদ্ধতিটাই যেন একেবারে “acrobatics + music”! আর সেই কারণেই মন্টেজুমা ওরোপেন্ডোলা-র মতো পাখি দেখলে মনে হয় — প্রকৃতিতে সঙ্গী আকর্ষণের কৌশলের কোনও সীমাই নেই!
