অন্য প্রাণীদের গানের গড়ন আর ভাষা
সঙ্গীত এবং মানব ভাষাকে যোগাযোগের একটি ধারাবাহিক ফর্ম হিসাবে গণ্য করা যেতে পারে যা অর্থের নির্দিষ্টতার ক্ষেত্রে আলাদা করা হয়। ভাষার বিভিন্ন রূপ যা স্বর, ছন্দ, লয়, শব্দার্থবিদ্যা- যেমন প্রার্থনা, মন্ত্র, কবিতা, নার্সারি রাইমস, উচ্চারণের ধরন ইত্যাদি। প্রাণীদের কণ্ঠস্বর অর্থের ধরন দিয়ে অনুপ্রাণিত হতে পারে; যেমন, আগ্রাসন প্রকাশ করা বা শিকারীদের উপস্থিতির সতর্কতা, গোষ্ঠী সংহতি, সামাজিক সংক্রামণ বা সৃজনশীলতা দেখানোর জন্য ফর্মের অবাধ খেলা গঠন করতে পারে।
সঙ্গীতের একটি আন্তঃ-
সাংস্কৃতিক ধারণার মূল কথা যৌথ গোষ্ঠীর মিথস্ক্রিয়ার রূপ: সঙ্গীত একটি বৃহৎ গোষ্ঠীকে যৌথ ক্রিয়া, উৎপাদন এবং উপলব্ধির ক্ষেত্রে সমন্বয় করার একটি ফর্ম হতে পারে। সঙ্গীত একক, কথোপকথন, দায়িত্বশীল (ব্যক্তি-গোষ্ঠী) বা একটি সম্পূর্ণ যৌথ গ্রুপ-ভিত্তিক কার্যকলাপ হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে, বিভিন্ন সংস্কৃতির ‘বিশুদ্ধ সঙ্গীত’ ধারণাটি বিশ্বের সঙ্গীতের এক একটি খুব ছোট বিন্যাস যা একটি সাংস্কৃতিক তুলনার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী প্রয়াস।
ওপরের প্রেক্ষাপটে, প্রাণীর কণ্ঠের অনেক শর্ত মানুষের সঙ্গীতের বৈশিষ্ট্যের সাথে মিলে যায়। যতদূর আমরা বুঝতে পারি যে তাদের গান জটিল শব্দার্থবিদ্যা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত নয়, তা আসলে পারস্পরিক এবং দলগত মিথস্ক্রিয়া (ইন্টারেক্টিভ)। তবে একাও কোন প্রাণী গান গাইতে পারে, গায়ও। সেজন্যে, সঙ্গীতে কাঠামো নির্মাণের নীতিগুলি এবং প্রাণীদের কণ্ঠস্বর ভাষার থেকে যথেষ্ট আলাদা হতে পারে আর বিভিন্ন যোগাযোগের প্রেরণা থেকেও গড়ে উঠতে পারে। যদিও অভিব্যক্তির সাধারণ রূপ যেমন ভয় বা আগ্রাসনের মতো কাঠামোতে সে সুর একই রকম শোনাতে পারে। এই বিশ্লেষণ থেকে বোঝা যায় যে ধ্বনিবিন্যাসে নিছক কাঠামোগত তুলনা হিসাবে এক হতে পারে না।
তথ্যসূত্রঃ-
- Principles of structure building in music, language and animal song: Martin Rohrmeier, Willem Zuidema, Geraint A. Wiggins and Constance Scharff; Published:19 March 2015
- Philos Trans Royal Society Lond Biol Sci. 2015 Mar 19; 370(1664): 20140097. doi: 10.1098/rstb.2014.0097

তপন কুমার গঙ্গোপাধ্যায়
বিজ্ঞান লেখক। অবসর প্রাপ্ত সরকারী আধিকারীক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সদ্যস, জীব বৈচিত্র সংরক্ষন একাডেমি ,কলকাতা।
