অন্য প্রাণীদের গানের গড়ন আর ভাষা
শ্যাননের এন-গ্রাম:
শ্যানন তথ্য তত্ত্বের ওপর এন-গ্রামকে ভাষার ক্রমিক কাঠামোর একটি সাধারণ মডেল হিসাবে প্রবর্তন করেছিলেন। এন-গ্রাম উত্পন্ন হওয়ার আগের (n-1) চিহ্নগুলির পরিপ্রেক্ষিতে একটি ক্রমানুসারে পরবর্তী চিহ্ন তৈরি করার সম্ভাবনাকে সামনে আনে। যখন n = 2 হলে, এন-গ্রামগুলি ‘বি-গ্রাম’ হয়ে যায়, যা পরিবর্তনের সম্ভাব্যতার মডেল তৈরি করে: পরবর্তী শব্দ তৈরি করার সম্ভাবনা শুধুমাত্র বর্তমান শব্দটি কী তার উপর নির্ভর করে। শ্যানন কর্পোরা (কর্পোরা:- বিশ্বাসযোগ্য সূত্র, যেমন সংবাদপত্র, পত্রিকা বা পাঠ্যপুস্তক থেকে নেওয়া ভাষার একটি সংগ্রহ) থেকে শব্দের সংখ্যা দিয়ে দেখিয়েছেন যে n যত বেশি হবে, শব্দের ভবিষ্যদ্বাণী তত ভাল হবে (একটি সংগ্রহ দেওয়া হয়েছে যা বেশ বড়)।
n-গ্রাম মডেলগুলি (সাধারণত বি-গ্রাম) পাখির গান এবং সঙ্গীতে প্রয়োগ করা হয়েছে। অনেক পাখির প্রজাতির জন্য, বি-গ্রামগুলি অনুক্রমিক কাঠামোর একটি খুব পর্যাপ্ত বিবরণ দেয় বলে মনে হয়। চ্যাটফিল্ড এবং লেমন কার্ডিনালের গান অধ্যয়ন করেছেন, বলেছেন যে একটি ৩-গ্রাম (ট্রি-গ্রাম) মডেল, দ্বি-গ্রাম মডেলের চেয়ে সামান্য ভালো। ব্যবহারিক, পরিবেশগত প্রেক্ষাপটে n-গ্রাম মডেলের মার্জিত ব্যবহার প্রায়-উপযুক্ত (সাবঅপ্টিমাল) মডেল। পাখির গানের গবেষণার ফলাফলের সাথে সাদৃশ্যে, বেশ কয়েকটি সঙ্গীত মডেলিং গবেষণায় সুরের কাঠামো বা সুরেলা কাঠামো মডেলিংয়ের ক্ষেত্রে ট্রি-গ্রামগুলি ভালো ফল দেখিয়েছে।
ধ্রুপদী চমস্কি অনুক্রম:
১৯৫০-দশকের মাঝামাঝি থেকে নোয়াম চমস্কি কাজের ভাষার ধ্বনি কাঠামোর মডেল প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তাঁর আলোচনায়, চমস্কি প্রথমে ভাষার মডেলে সম্ভাব্যতা যুক্ত করার বিরুদ্ধে যুক্তি দেন। তাঁর চোখে, ভাষাবিদদের মূল সমস্যাগুলি জড়িয়ে আছে ভাষার বাক্য গঠনগত কাঠামোর সাথে। চমস্কি বিভিন্ন শ্রেণীর আনুষ্ঠানিক ভাষার ক্রমগুলির সেট তৈরি করেন।
ভাষাকে চারটি শ্রেণিতে ভাগ করেন:
- ১) নিয়মিত ভাষা (Regular languages),
- ২) প্রসঙ্গ-মুক্ত (Context-free) ভাষা,
- ৩) প্রসঙ্গ-সংবেদনশীল (Context-sensitive) ভাষা এবং
- ৪) পুনরাবৃত্তি দিয়ে গোনা যায় (Recursively enumerable) এমন ভাষা
প্রতিটি শ্রেণীতে একটি অসীম সংখ্যক সেট রয়েছে, এবং এদের মধ্যে উপসেট সম্পর্কও রয়েছে। প্রতিটি নিয়মিত ভাষাও প্রসঙ্গ-মুক্ত, প্রতিটি প্রসঙ্গ-মুক্ত ভাষাও প্রসঙ্গ-সংবেদনশীল এবং প্রতিটি প্রসঙ্গ-সংবেদনশীল ভাষা পুনরাবৃত্তি দিয়ে গোনা যায়।
