Life Science-জীববিজ্ঞান

অন্য প্রাণীদের উপর সঙ্গীতের প্রভাব ও চিকিৎসা

প্রাণীদের স্বাভাবিক আচরণে ছন্দময় উপাদান থাকতে পারে, তবে প্রকাশ করে না যে তারা সঙ্গীত বা অন্যান্য কৃত্রিম শব্দে উপস্থিত ছন্দবদ্ধ কাঠামোর কোন অংশ উপলব্ধি করে। বেশ কিছু প্রাণী অভিন্ন শব্দ স্পন্দন থেকে নির্মিত নিয়মিত (আইসোক্রোনাস) এবং অনিয়মিত (নন-আইসোক্রোনাস) ক্রমগুলি আলাদা করতে পারে, তবে কিছু কিছু দুর্বল অংশের পার্থক্য ধরতে পারে না। তাল উপলব্ধি করার এবং বিভিন্ন টেম্পি (নির্দিষ্ট মাত্রায় প্রবেশ) জুড়ে চলাফেরার সাথে সমন্বয় সাধন করার ক্ষমতা প্রাথমিকভাবে তোতাপাখির মতো কণ্ঠ শিক্ষার প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ বলে মনে করা হয়েছিল। পরে ক্যালিফোর্নিয়ার সামুদ্রিক সিংহের (Sea Lion) মধ্যে তাল উপলব্ধির কথা জানার পর (যারা কণ্ঠ দিয়ে শব্দ অনুকরণ করে না) মনে হয় যে তাল বোঝার ক্ষমতা প্রাণীদের মধ্যে আরও ব্যাপক হতে পারে।

মর্টনের (‘অনুপ্রেরণা-কাঠামোগত নিয়ম’, ১৯৭৭) অনুমান জানায় যে পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে, প্রতিকূল পরিবেশের কণ্ঠস্বর কিন্তু বন্ধুত্বপূর্ণ প্রসঙ্গের তুলনায় কম কম্পাঙ্কের, বড় তরঙ্গদৈর্ঘের এবং কোলাহলপূর্ণ। প্রতিকূল কণ্ঠস্বরের শাব্দিক কাঠামো সম্পর্কে তাঁর ভবিষ্যদ্বাণী সাধারণত বিভিন্ন পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে মিলে যায়, তবে ভয় দেখানো বা বন্ধুত্বপূর্ণ কণ্ঠস্বরগুলির কাঠামোর প্রমাণ আরও মিশ্র (আগস্ট এবং অ্যান্ডারসন, ১৯৮৭)। যেমন, ভয়ের সময় বা হুমকির প্রতিক্রিয়ায় কটন টপ টেমারিনের কণ্ঠস্বর ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ, সামাজিক মেলামেশার তুলনায় সংক্ষিপ্ত, আরও ঘন ঘন পুনরাবৃত্ত, বড় তরঙ্গদৈর্ঘ্যের এবং কোলাহলপূর্ণ। ভয়-প্ররোচিত এবং আক্রমনাত্মক কণ্ঠস্বরগুলির মধ্যে কোলাহলপূর্ণ অরৈখিক উপাদান থাকতে পারে যা অভ্যাস করা বা উপেক্ষা করা কঠিন, তা শ্রোতাদের মধ্যে উত্তেজনা এবং মনোযোগ বাড়ায় (ব্লুমস্টেইন এবং রেকাপেট, ২০০৯)।

উপলব্ধি হল প্রথম ধাপ যার মাধ্যমে সঙ্গীত প্রাণীর আচরণ এবং শারীরবৃত্তিকে সংশোধন করতে পারে। আমরা যেমন উল্লেখ করেছি, বিভিন্ন শাব্দিক বৈশিষ্ট্যের প্রতি উপলব্ধিগত সংবেদনশীলতার প্রধান সীমাবদ্ধতা এবং পার্থক্যগুলি সঙ্গীতে প্রাণীর প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে। যা অনুভূত হয় তা পরবর্তীতে আরও জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াকরণের মধ্যে আসে। সে ধরনের সঙ্গীত উত্তেজনাকে সংশোধন করে এবং উদ্দীপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে আচরণগত এবং শারীরবৃত্তীয় প্রতিক্রিয়ার ধরন এবং পরিমাণকে প্রভাবিত করে। এখানে একটি প্রধান প্রভাব হবে ব্যবহৃত সঙ্গীত প্রজাতির কণ্ঠস্বর বা অন্যান্য জৈবিকভাবে অর্থপূর্ণ শব্দের সাথে কতটা শাব্দিক বৈশিষ্ট্য ভাগ করে তার ওপর। মূল্যায়নের আগের অভিজ্ঞতা, সামাজিক সংকেত (যেমন অন্যদের প্রতিক্রিয়া পর্যবেক্ষণ), এবং স্বতন্ত্র প্রবণতা (যেমন আশাবাদী বা হতাশাবাদী পক্ষপাত) দিয়ে প্রভাবিত হতে পারে। ওপরের কারণগুলি থেকে এটা অসম্ভব বলে মনে হয় যে কোন সঙ্গীতের একটি একক অংশ বা প্রকার সার্বজনীনভাবে প্রয়োগ করা যেতে পারে যা সমস্ত পরিস্থিতিতে সমস্ত প্রাণীর কল্যাণ করতে পারবে।

তথ্যসূত্রঃ-

১) Animal Signals, Music and Emotional Well-Being: Charles T. Snowdon, Bertrand L. Deputte, Academic Editor, Caroline Gilbert, Academic Editor, and Emmanuelle Titeux, Academic Editor
২) Music for animal welfare: A critical review & conceptual framework: Buddhamas P. Kriengwatana, Richard Mott, Carel ten Cate


তপন কুমার গঙ্গোপাধ্যায়

বিজ্ঞান লেখক। অবসর প্রাপ্ত সরকারী আধিকারীক, পশ্চিমবঙ্গ সরকার সদ্যস, জীব বৈচিত্র সংরক্ষন একাডেমি ,কলকাতা।