অন্য প্রাণীদের উপর সঙ্গীতের প্রভাব ও চিকিৎসা
কটন-টপ টেমারিন, ছোট ৫০০ গ্রাম ওজনের একটি বানর প্রজাতির প্রাণী, বন্য অবস্থায় উত্তর কলম্বিয়ার বনভূমিতে বাস করে এবং তাদের প্রধান যোগাযোগের পদ্ধতি হিসাবে কণ্ঠস্বর ব্যবহার করে। এদের উপর সঙ্গীতের প্রভাব নিয়ে পরীক্ষার সময় দেখা যায় এরা আধুনিক ব্যান্ডের আওয়াজের চেয়েও মোজার্টের সঙ্গীত বেশি পছন্দ করে, কিন্তু আবার মোজার্টের চেয়েও বেশি পছন্দ করে নীরবতা। এই দেখে গবেষকরা তাঁদের গবেষণার উপসংহারে লেখেন যে এই বানরদের সঙ্গীতে কোন আগ্রহ নেই। আসলে এই বানরদের স্বাভাবিক ডাক মানুষের সঙ্গীতের তুলনায় গড়ে প্রায় তিন পর্দা (স্কেল) ওপরে, এবং এদের বিশ্রামের হৃদস্পন্দন একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রায় তিনগুণ। তাই তাদের অভ্যস্ত কম্পাঙ্কের সীমার মধ্যেকার সঙ্গীতের ওপরই আকর্ষণ বেশি।

গবেষকরা এই তথ্যগুলিকে মাথায় রেখে প্রজাতি-উপযুক্ত সঙ্গীত রচনা করেন। প্রথম সেট-এ বানরগুলিকে শান্ত সঙ্গীত শোনানো হয়। এই বিন্যাসগুলি তৈরি করতে ব্যবহার করা হয়েছিল- দীর্ঘ নোট, সুরেলা গঠন, নিম্ন প্রশস্ততা, আর টেমারিনের বিশ্রামের হৃদস্পন্দনের গতির লয়। কোলাহলপূর্ণ দ্বিতীয় বিন্যাসটি তৈরি করা হয় টেমারিনের বিশ্রামের হৃদস্পন্দনের দ্বিগুণ গতির লয়ে। দ্রুত গতির সাথে অত্যন্ত উত্তেজক এবং ভয় জাগানো ছিল সেই বিন্যাস। গবেষকরা মানুষের জন্য উপযুক্ত সঙ্গীতের দুটি অতিরিক্ত বিন্যাসও পরীক্ষা করেছিলেন বানরগুলির উপর; একটি শান্ত বৈশিষ্ট্যের এবং অন্যটি মানুষের জন্য উদ্দীপক ৷ এইভাবে, মোট আটটি ভিন্ন ভিন্ন বাজনা ছিল।
দেখা যায় টেমারিনরা শান্ত ভাবের সঙ্গীত শোনার পরে খুব কম চলাফেরা করছে; বেশি করে খাওয়া-দাওয়ায় মন দিয়েছে। অন্য দিকে উত্তেজক সঙ্গীত শোনার দেখা যায় পরে তাদের সঙ্গীদের সাথে আড্ডা ও সামাজিক যোগাযোগ স্থাপনের ইচ্ছা বেশ বাড়িয়ে দিয়েছে। একমাত্র ব্যতিক্রম দেখা গিয়েছিল মানুষেদের উপযগী হেভি মেটাল বাজনা শোনানোর পর। এদের চলাফেরা একেবারেই কমে গিয়েছিল। এই ফলাফলটি প্রথমে অস্বস্তিকর বলে মনে হলেও, পরে গবেষকরা বুঝতে পারেন যে মানুষের হেভি মেটাল বাজনার তাল টেমারিনের বিশ্রামের হৃদস্পন্দনের সাথে মিলে যায়। আমাদের কাছে যেটা উদ্দীপক সঙ্গীত আসলে তা টেমারিনদের জন্য শান্ত সঙ্গীত।
