মানুষের ঘুমের বিবর্তনীয় কাহিনী
ঘুম মানুষের স্বাস্থ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। কিন্তু কেন মানুষ সবচেয়ে কম ঘুমানো প্রাইমেটে পরিণত হলো তার কোনো প্রচলিতভাবে ব্যাখ্যা নেই। তাই আজকের আলোচনার বিষয়বস্তু হিসাবে এই বিবর্তনীয় কাহিনীটি কীভাবে আমাদের জীবনকে উন্নত করতে পারে, আসুন সেটাই দেখা যাক।
ডেভিড আর. স্যামসন টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবর্তনীয় নৃবিজ্ঞানের একজন সহযোগী অধ্যাপক এবং ‘দ্য স্লিপলেস এপ: দ্য স্টোরি অব স্লিপ ইন হিউম্যান ইভোলিউশন’ গ্রন্থের লেখক। তাঁর কাজ ঘুম এবং সার্কাডিয়ান জীববিজ্ঞানের, অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়িগুলোর, দৃষ্টিকোণ থেকে মানুষের এই মৌলিক প্রশ্নটির সমাধান করা। সার্কাডিয়ান জীববিজ্ঞান হলো সেই অভ্যন্তরীণ জৈবিক ঘড়ির কার্যপ্রণালি, যা ২৪ ঘণ্টাব্যাপী শারীরবৃত্তীয় ও আচরণগত চক্রগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করে। এটি যে কোনো প্রাণীর ঘুম ও জেগে থাকার ধরণ, হরমোন নিঃসরণ এবং বিপাকক্রিয়ার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জৈবিক কাজগুলোর সমন্বয় সাধন করে।
তিনি লেমুর, চিড়িয়াখানার ওরাংওটাং, বন্য শিম্পাঞ্জি এবং বিভিন্ন ধরণের সমাজে বসবাসকারী মানুষের ঘুমের গঠন নিয়ে যুগান্তকারী ডেটাসেট তৈরি করেছেন। এই গবেষণা থেকে জানা যায়, কীভাবে মানুষের সামাজিক ও প্রযুক্তিগত বিবর্তনে স্বল্প কিন্তু কার্যকর ঘুম সুবিধাজনক হয়ে উঠেছে। তিনি জানান, আদিম মানুষের ঘুমের অভ্যাসগুলো কীভাবে তাদের টিকে থাকা, উদ্ভাবন এবং সামাজিক বিবর্তনকে ত্বরান্বিত করেছিল। তাছাড়া, কীভাবে এই বিবর্তনীয় উত্তরাধিকার আমাদের বর্তমান ঘুমের ধরণ সম্পর্কে গভীর নতুন ধারণা তৈরি করেছে।
এই নতুন বইয়ে নৃতত্ত্ব, স্নায়ুজীববিদ্যা এবং প্রাইমাটোলজি – এই তিনটি শাখাকে একত্রিত করে এমন একটি যুক্তির জাল বোনা হয়েছে, যা দেখায় যে মানুষ ঠিক কতটা ঘুমাবে, তা মূলত একটি বিবর্তনীয় আপস বা ‘ট্রেড-অফ’। আর এই বিষয়টিই আমাদের প্রত্যেকের আরও ভালো ঘুমের উপায় বলে দেয়। স্যামসন এই অন্তর্দৃষ্টি উপর নির্ভর করে মানুষ্য সম্প্রদায়ের জন্য স্পষ্ট ব্যবহারযোগ্য কর্মপন্থা নিয়ে এই বই রচনা করেন। তাঁর আলোচনায় বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান এবং স্নায়ুবিজ্ঞানকে দৈনন্দিন জীবনের নানা বিষয়ের সঙ্গে, যেমন কাজের সময়, আলো, যাতায়াত, শিফট পরিবর্তন এবং ক্লাসের শুরুর সময় সম্পর্কিত করা হয়েছে। এতে মনে করা হচ্ছে পাঠকেরা শক্তি, মনোযোগ এবং সুস্থতাকে নতুন আঙ্গিকে খুঁজে নিতে পারেন।
মানুষ কেন ঘুমায় এবং স্বপ্ন দেখে?
হাজার হাজার বছর ধরে দার্শনিকরা তর্ক করেছেন মানুষ কেন ঘুমায় এবং স্বপ্ন দেখে। খ্রিস্টপূর্ব চতুর্থ শতাব্দীতে লেখা তাঁর বই ‘ঘুম ও নিদ্রাহীনতা প্রসঙ্গে’ দার্শনিক অ্যারিস্টটল যুক্তি দিয়েছিলেন যে, ঘুম হলো চেতনার একটি প্রয়োজনীয় ও স্বাভাবিক স্থগিতাবস্থা, যা দেহ ও আত্মাকে পুনরুদ্ধারের সুযোগ করে দেয়।
সপ্তদশ শতাব্দীর শেষের দিকে এই দৃষ্টিভঙ্গিটি পরিবর্তন হয়। তখন দার্শনিক জন লক এবং ডেভিড হিউম মনে করতেন যে ঘুম আসলে যুক্তিবাদ এবং জ্ঞান অন্বেষণে বাধা সৃষ্টি করে। লক ঘুমকে মানুষের যুক্তিবাদী ও পরিশ্রমী হওয়ার অনিবার্য ব্যাঘাত হিসেবে দেখতেন। যদিও প্রাবন্ধিক জোনাথন ক্রারি এই দৃষ্টিভঙ্গিটিকে আরও সংক্ষিপ্তভাবে তুলে ধরেছেন “ঘুম হলো পরাজিতদের কাজ”। তিনি আধুনিক সমাজে ঘুমকে কীভাবে প্রায়শই অবমূল্যায়ন করা হয় সে সম্পর্কে লিখেছেন।
এদিকে আধুনিক বিজ্ঞান ক্রমশ অ্যারিস্টটলের মতকেই সমর্থন করে চলেছে। এটি জ্ঞানীয় ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, বিপাক প্রক্রিয়া এবং সামাজিক বন্ধন – এমন বহু গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য দরকার। তিনি ঘুমের অপরিহার্যতা সম্পর্কে অগণিত প্রমাণ উপস্থাপন করেন। মস্তিষ্কের বিপাকীয় বর্জ্য অপসারণ, সিন্যাপসগুলোর সুবিন্যাস এবং জ্ঞানীয় প্রক্রিয়াকরণের কার্যকারিতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করার জন্য ঘুম একান্ত অপরিহার্য।
মানুষ এত কম ঘুমায় কেন?
এবার আসা যাক কানাডার টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয়ের জীব ও নৃবিজ্ঞানী ডেভিড স্যামসনের কথায়, যিনি একটি চাঞ্চল্যকর প্রশ্ন তুলেছেন: ঘুমের যদি এত উপকারিতা থাকে, তবে মানুষ এত কম ঘুমায় কেন?
মানুষের নিকটাত্মীয় প্রজাতিদের ঘুমের ধরণ নিয়ে গবেষণা করে তিনি অনুমান করেন যে, মানুষের মৌলিক জৈবিক চাহিদা পূরণের জন্য প্রতিদিন প্রায় ৯.৫ ঘণ্টা ঘুমের প্রয়োজন। কিন্তু আসলে গড়ে মানুষ দিনে সাত ঘণ্টারও কম ঘুমায়। স্যামসন এই ২.৫ ঘণ্টার পার্থক্যকে “মানব ঘুমের প্যারাডক্স” নাম দিয়েছেন এবং এটিকে তাঁর বই ‘দ্য স্লিপলেস এপ’-এর মূল বিষয়বস্তু। ।
এটি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্যামসন যুক্তি দেন যখন আমাদের পূর্বপুরুষরা গাছে ঘুমানো ছেড়ে গাছের নিচে ঘুমাতে শুরু করে, তখন প্রাকৃতিক নির্বাচনের দ্বারাই স্বল্পস্থায়ী, কিন্তু উন্নত মানের ঘুমকে প্রাধান্য দিয়েছিল। কারণ, মাটিতে থাকলে হিংস্র প্রাণীর আক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তাই দীর্ঘ সময় ধরে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা তাদের জন্য বিপজ্জনক ছিল। এই কারণে হোমিনিনরা তাদের বিশ্রামকে সংক্ষিপ্ত ও গভীর ঘুমে সংকুচিত করে ফেলেছিল। এর একটি ভালো দিক ছিল খাদ্য সংগ্রহ, সামাজিক মেলামেশা এবং সরঞ্জাম ব্যবহার শেখার জন্য জেগে থাকার অতিরিক্ত সময় ব্যায় করা। হিউম এবং লক এতে সম্মতি জানান।
স্যামসন নৃতাত্ত্বিক প্রমাণের বিচিত্র সব সূত্র দিয়ে তাঁর যুক্তিকে জোরালো করে তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে উগান্ডার তোরো-সেমলকি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যে বুনো শিম্পাঞ্জিদের (Pan troglodytes) নিয়ে তাঁর নিজস্ব গবেষণার ফলাফল। পাশাপাশি তানজানিয়ার ‘হাদজা’ এবং কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের ‘বায়াকা’ এই দুটি জনগোষ্ঠী যারা শিকার সংগ্রহ করে জীবন কাটায় তাদের ওপর চালানো গবেষণার তথ্যও এতে অন্তর্ভুক্ত।
স্যামসনের প্রাথমিক গবেষণায় শিম্পাঞ্জিদের রাতে গাছে ‘বাসা’ তৈরির বিষয়টি নথিবদ্ধ করা হয়েছিল। এগুলো হলো ঘুমানোর জন্য তৈরি এক ধরনের মঞ্চ বা পাটাতন, যা গাছের নরম ডালপালা এবং পাতা দিয়ে তৈরি করা হয়। এই বাসাগুলো তাদের স্থিতিশীলতা জোগায়, শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে এবং শিকারি প্রাণী ও পরজীবীদের হাত থেকে সুরক্ষা দেয়।

বাসা তৈরির এই প্রবণতা অন্যান্য ‘গ্রেট এপ’ বা বৃহৎ নরবানর প্রজাতিগুলোর মধ্যেও দেখা যায়: যেমন, ওরাংওটান (Pongo spp.), গরিলা (Gorilla gorilla) এবং বোনোবো (Pan paniscus)। স্যামসন যুক্তি দেন যে এটি কেবল একটি অদ্ভুত বা খেয়ালি অভ্যাস মাত্র নয়; বরং এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন, যা প্রাইমেট বা নরবানরদের বিবর্তনের গতিপথকেই নতুনভাবে ঢেলে সাজিয়েছে। শেষ পর্যন্ত মানুষের মধ্যে নিরাপদ ও সুরক্ষিত পরিবেশে ঘুমানোর প্রবণতা গড়ে ওঠার পথ প্রশস্ত করেছে। প্রাইমেট-গবেষক বারবারা ফ্রুথ এবং গটফ্রিড হোহম্যান যাদের উদ্ধৃতি স্যামসন তাঁর বইয়ে উল্লেখ করেছেন। তাঁদের কথায় বাসা তৈরি ছিল “উচ্চতর বুদ্ধিবৃত্তি, বস্তু-ব্যবহারের দক্ষতা এবং প্রযুক্তিগত নৈপুণ্যের এক সূতিকাগার”।
স্যামসন এই অভিমতের সাথে একমত। তবে বইটিতে এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করা হয়নি যা হয়তো এই আলোচনার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হতে পারত: আর তা হলো ‘আই-আই’ (Daubentonia madagascariensis) নামক প্রাণীটি। এটি হয়তো একটি সামান্য ত্রুটি; কিন্তু বিড়ালের আকারের এই নিশাচর প্রাণীগুলোও অত্যন্ত সুনিপুণ ও জটিল বাসা তৈরি করে। প্রাইমেটদের মধ্যে একমাত্র এরাই শিম্পাঞ্জিদের পাশাপাশি এমনটা করে থাকে। শরীরের আকারের অনুপাতে, সমস্ত লেমুর প্রজাতির মধ্যে এদের মস্তিষ্কের আকারই সবচেয়ে বড়। ‘আই-আই’দের ঘুমের ধরন বা ‘স্লিপ আর্কিটেকচার’ সম্পর্কে এখন পর্যন্ত খুব কমই গবেষণা হয়েছে; অথচ বাসা তৈরি এবং উন্নত বুদ্ধিবৃত্তির বিকাশের মধ্যকার সম্পর্কটি যাচাই করার জন্য এই প্রজাতিটি একটি অত্যন্ত মূল্যবান তুলনামূলক গবেষণার বিষয় হতে পারত।
বর্তমানে ঘুম ও আগুন সম্পর্কিত স্যামসনের যুক্তিগুলো অপরিপূর্ণ। কিন্তু তিনি ঘুম এবং আগুনের আলোর মধ্যে একটি সম্ভাব্য সম্পর্ক যা কিনা রেডলাইট থিয়োরি এড়িয়ে গেছেন। আগুনের আলোর দিকে তাকিয়ে থাকা, যা প্রায় ২.৪ হার্টজে কাঁপে, মস্তিষ্কের মূল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সে ডেল্টা ব্রেনওয়েভের পাওয়ার স্পেকট্রাম বাড়িয়ে দেয়। এটি একটি কাকতালীয় ঘটনা হতে পারে, কিন্তু এটি একটি আকর্ষণীয় সম্ভাবনা জাগিয়ে তোলে: আগুনের আলোর আশেপাশে মেলামেশা কি ঘুমের মতো একই ধরনের কিছু স্নায়ুশারীরবৃত্তীয় সুবিধা দেয়?

এই প্রশ্নটি খতিয়ে দেখার মতো, যেমনটা খতিয়ে দেখা উচিত আগুনের আলো মানুষকে জাগিয়ে রাখতে পারে কিনা। স্যামসন উল্লেখ করেছেন যে নীল আলোর প্রভাবে মেলাটোনিনের কাজকে সীমিত করে, যাকে কখনও কখনও অন্ধকারের হরমোন বলা হয় কারণ এটি মেরুদণ্ডী প্রাণীদের মধ্যে ঘুম ঘুম ভাব আনতে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আগুনের আলোর নীল তরঙ্গদৈর্ঘ্য মেলাটোনিন উৎপাদনকে বাধা দিতে পারে। আগুনের আলোর সামগ্রিক হলদেটে কমলা রঙ এবং এর আরামদায়ক প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে, এমনটা ঘটার সম্ভাবনা কম বলেই মনে হয়।
বইটির শেষ অধ্যায়গুলোতে স্যামসন ঘুমের মান উন্নত করার জন্য দিনের বেলায় বাইরে যাওয়ার উপকারিতা তুলে ধরেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, সূর্যালোকের ইনফ্রারেড তরঙ্গদৈর্ঘ্যের অধিক সংস্পর্শ যে বিকিরণ মানুষ চোখে দেখতে পায় না , কিন্তু ত্বকে তাপ হিসেবে অনুভব করে মাইটোকন্ড্রিয়ার কার্যকারিতা বাড়াতে পারে। মাইটোকন্ড্রিয়া হলো শরীরের ভেতরের সেই কোষাণু যা শক্তি এবং বিপাক নিয়ন্ত্রণ করে। আমি স্যামসনের সাথে একমত, কিন্তু অদ্ভুতভাবে, তার এই সামগ্রিক অনুমানের পরিপ্রেক্ষিতে, তিনি আগুনের আলো থেকে নির্গত ইনফ্রারেড বিকিরণকে উপেক্ষা করেছেন। যদি এগুলো সূর্যালোকের মতো একই ধরনের আলোক-বিপাকীয় উপকারিতা প্রদান করে, তবে মানব বিবর্তনের উপর এর প্রভাব গভীর এবং সুদূরপ্রসারী হতে পারত। রাতে আগুনের আলোর চারপাশে জড়ো হওয়া হয়তো দিনের বেলায় খাদ্য সংগ্রহ এবং অন্যান কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তির ব্যয় আংশিকভাবে পুষিয়ে দিত, যার ফলে মানুষের এত বেশি ঘুমানোর প্রয়োজন হতো না।
রেড-লাইট থেরাপির পেছনের বিস্ময়কর বিজ্ঞান এবং এটি আসলে কীভাবে কাজ করে? এই অনুমানগুলোর কোনোটিই সমালোচনা হিসেবে করা হয়নি। স্যামসন যিনি গবেষণার একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্রকে তুলে ধরেন যা নতুন প্রশ্নের জন্ম দেয়। তাঁর সংশ্লেষণটি প্রাণবন্ত যা তুলনামূলক একত্রিত করে একটি নতুন আখ্যান তৈরি করেছে, যা আগামী বছরগুলোতে ঘুমের উপর গবেষণাকে নতুন রূপ দেবে। এর সীমাবদ্ধতাগুলো বড় ত্রুটি নয়, বরং ভবিষ্যৎ গবেষণার জন্য নতুন জানালা খুলে দেবে। ফাইলোজেনেটিক্স, এথনোগ্রাফি, প্রাইমাটোলজি ও নিউরোবায়োলজি এই চারটি ক্ষেত্র মূলত জীববিজ্ঞান ও নৃবিজ্ঞানের আন্তঃসম্পর্কিত শাখা, যা জীবের উৎপত্তি, বিবর্তন, আচরণ এবং মস্তিষ্ক নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে গবেষণা করা হয়।
‘দ্য স্লিপলেস এপ’ বইটি বিশ্রামের বিবর্তনীয় মূল্যকে স্বীকার করার পাশাপাশি ঘুমের উপকারিতা সম্পর্কে অ্যারিস্টটলের দৃষ্টিভঙ্গিকে পুনরুজ্জীবিত করতে সফল হয়েছে। মানুষ ঘুমকে জেগে থাকার সময় ছাড়া বিশ্রাম করতে ব্যবহার করে। স্যামসন এটিকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছেন। তাঁর ঘুমের ধারনায় আছে বাইরের আলো, অগ্নিকুণ্ডের পাশে সমাবেশ এবং অন্যের সাথে ভাগ করা আশ্রয় ও শোয়ার মতো অভ্যাসগুলোর চর্চা আমাদের পূর্বপুরুষেরা পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে তৈরি করে। এই বিষয়টি গবেষক এবং নীতিনির্ধারক উভয়ের জন্যই একটি বাস্তবসম্মত নতুন পথের দিশা দেখাবে আশা করা যায়।
যদি বইটির ভবিষ্যদ্বাণী সঠিক প্রমাণিত হয়, তবে পরবর্তী প্রজন্ম হয়তো ঘুমের সময়কাল বাড়িয়ে দেবে না, বরং মানুষ এই চাপগুলোর সাথে তাদের ঘুমের ধরনকে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার মাধ্যমে সর্বকালের রাতের সেরা ঘুম উপভোগ করতে পারবে। স্যামসন কেবল একটি আপাত-বিরোধিতার সম্ভাব্য সমাধানই করেননি, বরং ঘুম সম্পর্কে এমন একটি দৃষ্টিভঙ্গিও তুলে ধরেছেন যা বৈজ্ঞানিকভাবে সুসংবদ্ধ এবং সামাজিকভাবেও প্রাসঙ্গিক। বইটি একটি স্বস্তিদায়ক অনুস্মারক যে, ঘুম কেবল মানুষের অবসর বিনোদন নয়, বরং সঠিকভাবে ঘুম চূড়ান্ত বিবর্তনীয় সুবিধা দেবে।

বিশ্ব রঞ্জন গোস্বামী
বিজ্ঞান লেখক। অবসর প্রাপ্ত সরকারী আধিকারীক, পশ্চিম বঙ্গ সরকার সদ্যস, জীব বৈচিত্র সংরক্ষন একাডেমি, কলকাতা ও বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটি।
