দুই দশকের নীরবতা ভেঙ্গে আবারও ডাক দিল জার্ডনস কোর্সার-পর্ব ২

অধ্যায় ৩ : জার্ডনস কোর্সার পাখির খোঁজে সরঞ্জাম ও অন্যান্য প্রস্তুতি
এদেশে পাখি পর্যবেক্ষণের সরঞ্জামের মাস্টার শশাঙ্ক তার দুই ধরণের ক্যামেরা, প্যারাবোলা এবং একাধিক সাউন্ড রেকর্ডার, টর্চ, ক্যামেরা ইত্যাদি সঙ্গে নিয়েছিলেন।। প্রণব নিয়ে এসেছিলেন তার সাথে করে ফেনিক্স মনস্টার LR50R। থাঙ্গারাজ দ্বিতীয় ধরণের ক্যামেরা এবং বন্যপ্রাণীদের জন্য তৈরি একটি ফেনিক্স HT18R টর্চও কিনেছিলেন। আদেশ তার ফেনিক্স PDR40v2 সাথে করে নেন। শশাঙ্ক এবং থাঙ্গারাজ সুবিধার জন্য ছোট ১০০-৫০০ মিমি লেন্স বেছে নিয়েছিলেন। তারা প্রতিটি এলাকার সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে ২ বা ৩ জনের দলে ভাগ হয়ে গন্ত্যবে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাই তারা নিশ্চিত ছিলেন যে প্রতিটি দলের হাতে ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সেট আছে।
রনিথ গোলমরিচের স্প্রে ক্যান সঙ্গে নিয়েছিলেন হিংস্র জানোয়ার বিশেষ করে স্লথ বিয়ার থেকে রক্ষা পাবার জন্য। জঙ্গলের ভিতর দিয়ে চলার সময় তাঁদের হাঁটার শব্দ পুরোপুরি আড়াল রাখার জন্যে এক অভিনব পদ্ধতি অবলম্বন করেছিলেন তিনি। পরিচিত কিছু স্থানীয় ব্যাঙের আওয়াজ রেকর্ড তৈরি করে আস্তে করে বাজিয়ে গিয়েছিলেন। দীর্ঘ অনুসন্ধানের প্রত্যাশায় আদেশ তেলুগু ভাষাও শিখতে শুরু করেছিলেন, তবে স্পষ্টতই কার্যক্ষেত্রে তেমন কোনও প্রভাব ফেলতে পারেনি।
অধ্যায় ৪ : জার্ডনস কোর্সার পাখির খোঁজে মূল যাত্রা
২৩শে আগস্ট ২০২৫, থাঙ্গারাজ আর আদেশ সকাল ১০.০০ টায় বেঙ্গালুরুতে বিমান থেকে নেমে কাছের একটি শহর থেকে মনোজকে পিক আপ করে আনতে ৬ ঘন্টা গাড়ি চালিয়ে যান। রাস্তায় যেতে যেতে আদেশ ভাবছিলেন যে অমাবস্যার রাতে পাখিটি আরও সক্রিয় থাকতে পারে কিনা। সেই রাত ছিল পুরো অমাবস্যা! কিন্তু গুগলের ভুল দিকনির্দেশনার ফলে তাঁরা পুট্টাপার্থি শহরের মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে দেন। মজার বিষয় হল, জুলাই মাসে লাদাখে লং বিল্ড বুশ ওয়ারব্লার খুঁজে পাওয়ার ঠিক আগের দিনেও এই ধরনের ঘটনা ঘটেছিল। কাকতালীয়ভাবে হলেও আবার জেরডনের কোর্সারের বেলাতেও এটি ঘটেছিল!
সূর্যাস্তের ঠিক আগে রাতের থাকার জন্য চিহ্নিত আবাসস্থলে পৌঁছান। দেখা গেল এটি সঠিক জায়গা নয়। এটি এমন জায়গা যেখানে গাছপালা খুব ঘন। কিন্তু তাঁদের কাছে আরও ভালো জায়গা খোঁজার সময় ছিল না। উল্টে তর্ক বেধে যায় — অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত কি এর জন্য দায়ী? কোনও জার্ডনস কোর্সার পাখি কি এত পাথুরে এবং ঘাসের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে পারে? ইত্যাদি।
বলাবাহুল্য, ঘটনাস্থলে ৫ ঘন্টা সময় কাটিয়ে এই জায়গায় অন্যান্য সম্ভাব্য প্রজাতির বেশিরভাগ খুঁজে পান। এরপর তাঁরা রাত ১টার দিকে হোটেলে পৌঁছান।
২৪শে আগস্ট ২০২৫, সকাল, ঐতিহাসিক দিন! গুগল তাদের ঠিক জায়গায় নিয়ে যায়নি মনে করে হোটেল থেকে চেক আউট করার সিদ্ধান্ত নেয় থাঙ্গারাজ ও তাঁর সঙ্গীরা। জার্ডনের কোর্সার পাখি এই স্থানে মিলবে না। তাঁদের অন্য কোনও জায়গায় যাওয়ার উচিত ছিল। তবে প্রস্তুতিমূলক কাজের সাপেক্ষে এটিই ছিল সেরা আবাসস্থল। দিনের বেলায় বিশাল এলাকা ঘুরে না দেখে এত তাড়াতাড়ি হাল ছেড়ে দেওয়া ঠিক মনে হয়নি তাঁর। তিনি আবার একই জায়গায় গাড়ি চালিয়ে গ্রামবাসীদের সাথে কথা বলা উচিৎ বলে মনে করেন। সেই চিন্তা অনুযায়ী পরিকল্পনা করে তার বিপরীত দিকে গাড়ি চালানোর সিদ্ধান্ত নেন।
হোটেল থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে আদেশ একটি চমৎকার টিলা দেখতে পান। মানচিত্র দেখে পরে তারা এলাকাটি পরীক্ষা করার সিদ্ধান্ত নেন। টিলাটির ঢালে খুব বেশি ঘাস এবং ঝোপঝাড় ছিল না। তাঁরা আলাদা আলাদা দলে বিভক্ত হয়ে টিলা বেয়ে উঠার জন্য রওনা দেন। পরবর্তী ৪ ঘন্টা পায়ে হেঁটেই অনুসন্ধান চালিয়ে যান। থাঙ্গারাজ একটি মাটির রাস্তা এবং লং বিল্ড বুশ ওয়ারব্লার-এর আবাসস্থলের মতো একটি জায়গা চিহ্নিত করে আবার ২৮শে আগস্ট এই জায়গায় ফিরে আসবেন বলে ঠিক করে রাখেন।

এরপর তাঁরা অনুসন্ধানের জন্য আরও ভালো জায়গা খুঁজে পেয়ে প্রায় সোজা পাহাড়ের উপরে গাড়ি পার্ক করে আবার আলাদা হয়ে হাঁটা শুরু করলেন। দুপুর ২.৩০টার নাগাদ, থাঙ্গারাজের মনে হয়েছিল নেভিগেশন ব্যবহার না করেই তিনি অন্য দিকে চলে গেছেন। দুপুর ২.৫৫টার দিকে, তিনি দুর্ঘটনাক্রমে প্রায় ৩ মিটার উঁচু ঘন ক্যারিসা ঝোপের ছায়ায় বিশ্রামরত একটি সন্দেহজনক পাখির কাছাকাছি উপস্থিত হন। পাখিটি উড়ে যাওয়ার সময় কেবল পিছনের দিকটা লক্ষ্য করতে পেরেছিলেন তিনি। উপরের অংশ গাঢ় রঙের এবং আঁশযুক্ত ছিল। উড়ানের ধরণ, পাখির আকার এবং পাখির পিছনের দিক জার্ডনের কোর্সার পাখির সাথে মিল না পাওয়ায় একে অন্য কোন সহযোগী প্রজাতি বলে মনে করেন।

২৪শে আগস্ট ২০২৫, সন্ধ্যা: এইদিন প্রায় অবিরাম ১৪ ঘন্টা পাখিটির খোঁজ করে গিয়েছিল এই দল। তারা সেই একই জায়গায় পৌঁছে যেখানে থাঙ্গারাজ অজানা পাখিটির দেখা পেয়েছিলেন। সন্ধ্যা ৬.৩৫ থেকে ৭.০০ টা পর্যন্ত প্রচুর ভারতীয় নাইটজারদের (Indian Nightjar) তীব্র ডাক দিয়ে সন্ধ্যার কোরাস শুরু হয়। এরপর ভারতীয় “থিক-নি’’ (Indian Thick-knee)-র একবার ডাক শোনা গেল। সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ আদেশ এবং থাঙ্গারাজ দুটি সন্দেহজনক পাখিকে অদ্ভুত ডাক দিতে দিতে পাশ দিয়ে উড়ে যেতে দেখলেন। আকার এবং উড়ানের ধরণ জার্ডনের কোর্সার পাখির কোনও সহযোগী প্রজাতির সাথে মিল ছিল না। কয়েক মিনিট পরে, আবার সন্দেহজনক নতুন কোর্সার কল শুনতে পেলেন যা তারা রেকর্ড করে রাখতে পারেননি। এটা ছিল এক বড় ভুল।
থাঙ্গারাজ এক সময় ভেবেছিলেন প্রতি ৩০ মিনিট অন্তর ডাক রেকর্ড করবেন। যদি কোনও সন্দেহভাজন কল রেকর্ড না করা হয় তবে রেকর্ডিং সংরক্ষণ করা হবে না। প্রবীণ, জেগান্নাথন এবং ভরত ভূষন-এর মতামত ছিল যে পাখিটির ছবি তোলা অসম্ভব এবং কল রেকর্ডিংই একমাত্র বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা। থাঙ্গারাজ সন্ধ্যা ৭.৩৯ মিনিটে পরবর্তী মার্লিন রেকর্ডিং পুনরায় শুরু করেন। ওদিকে দ্রুত টর্চের আলোয় একাধিক পাখির ছবি তুলে যাচ্ছিলেন, যেমন জঙ্গল কোয়েল (Jungle Quails), রক বুশ কোয়েল (Rock Bush Quails), ইন্ডিয়ান থিক-নি (Indian Thick-knee), ইয়েলো-ওয়াটল্ড ল্যাপউইং (Yellow-wattled Lapwing), ইন্ডিয়ান বুশলার্ক (Indian Bushlark) এবং ইন্ডিয়ান নাইটজার (Indian Nightjar)। এই দিন এতসব পাখি দেখার পর তাদের মনে হয়েছিল অধরা পাখিটি আজ দেখতে পাবে।
রাত ৯.৩৫ মিনিটে, যখন মনোজ এবং থাঙ্গারাজ টর্চ নিয়ে একসাথে হাঁটছিলেন, তখন ওপাশ থেকে আদেশ এসে পৌঁছালেন। ওনারা একসাথে কথা বলা শুরু করতেই আরেক প্রাণীর গলা শুনতে পাওয়া গেল – জার্ডনস কোর্সার – এই শতাব্দীর ‘ভূত পাখি’র ডাক, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শ্রীলঙ্কামল্লেশ্বর বন্যপ্রানী অভয়ারণ্যের একমাত্র পরিচিত রেঞ্জের বাইরে শোনা ও রেকর্ড করা হয়। তিনবার পুনরাবৃত্তি হয় এই চিরাচরিত পরিচিত ডাক।
মনোজ এবং থাঙ্গারাজ আদেশকে কথা থামাতে ইঙ্গিত দেন, কিন্তু ততক্ষণে পাখিটি ডাকা বন্ধ করে দেয়। মুশকিল হল থাঙ্গারাজ মাঝে মাঝে রেকর্ডিং থামাতে এবং শুরু করতে ভুলে যাচ্ছিলেন। ফলে পাখির ডাক আদও রেকর্ড হয়ছে কিনা তা নিয়ে ওনার মনে ধ্বন্দ থেকে যায়। তার ওপর মোবাইলে এ্যাপের মাধ্যমে রেকর্ড করা ফাইলটি সংরক্ষণ করতে গিয়ে মার্লিন অ্যাপটি হ্যাং হয়ে যায়।
হোটেলে ফিরে থাঙ্গারাজ এই ১ ঘন্টা ৫৫ মিনিটের রেকর্ডিং ঞ্চালিয়ে শুনতে শুরু করেন। শেষ ৩০ সেকেন্ড শুনে সকলে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান। কারণ সেটি ছিল জার্ডনস কোর্সারের পরিচিত ডাকের প্রমাণ!
২৫শে আগস্ট ২০২৫, সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত আবার অনুসন্ধান শুরু হয়। তাঁরা কিছু রাখালের সঙ্গে কথা বলে তাদের মধ্যে একজনের মাধ্যমে অবশেষে এক শিকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করতে সক্ষম হন। তবে, শিকারীটি পরের দিন ভয় পেয়ে যায় এবং তাঁদের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকার করে।
অনুসন্ধানের মূল সেশনটি বিকেল ৪টা থেকে রাত ১২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত চলে, যেখানে দিনের বেলা ‘ফ্লাশিং’ এবং রাতের বেলা ‘কল শোনা’ — এই দুই কৌশল একসঙ্গে ব্যবহার করা হয়। সেই রাতে সাধারণ পাখিদের মধ্যেও তেমন কোনো তৎপরতা ছিল না। তবে রাত প্রায় ৯টার দিকে জেরডন’স কোর্সার তার পরিচিত দুই-নোটের ডাক চারবার পুনরাবৃত্তি করে। এবার থাঙ্গারাজের দলের বাকি দুই সদস্যও সেই ডাক স্পষ্টভাবে শুনতে পান। পাখিটি বেশ দূরে ছিল, প্রায় ১৫০ মিটার দূরত্বে। ফলে রেকর্ডিংয়ে সেই ডাক ধরা পড়েনি। টর্চলাইট ব্যবহার করে তাঁদের অনুসন্ধানী প্রচেষ্টাতেও পাখিটিকে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
২৬শে আগস্ট ২০২৫, অন্যান্য দলের সদস্যরা – রনিথ, শশাঙ্ক এবং প্রণব এসে পৌঁছান, যার ফলে জেরডন’স কোর্সারের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাতের সম্ভাবনা আরও বেড়ে যায়। তাঁরা সন্ধ্যায় এবং ভোরবেলা, দু’বার মাঠে যান, তবে কোনো সাফল্য মেলেনি। সন্ধ্যায় একটি হলুদ-পাওয়ালা বাটনকোয়েল (Yellow-legged Buttonquail) দেখতে পেলেন। ভোর প্রায় ৪টার দিকে তাঁরা ভারতের অন্যতম বিষাক্ত সাপ, একটি ‘স-স্কেলড ভাইপার’-এর ছবিও তুলতে সক্ষম হন। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে ‘ডন কোরাস’ শুরু হয় — নাইটজারদের ডাক ধীরে ধীরে বুলবুলদের কণ্ঠে মিলিয়ে যায়, যা অনুসন্ধানকারীদের জন্য কিছুটা হতাশাজনক ছিল।
২৭শে আগস্ট ২০২৫, দিনটি পাখি দেখার জন্য মোটেও ভালো ছিল না, কারণ দুটি গাড়িরই টায়ার পাংচার হয়ে যায়। টায়ার ঠিক করার জন্য তারা ২ ঘন্টা দৌড়ে কাটিয়েছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের পাখি দেখার জন্য একটি গাড়িতেই ভরসা রাখতে হয়েছিল। তারা বিকেল ৫টায় যাত্রা শুরু করেন, কিন্তু দুর্ভাগ্য তাদের তাড়াতাড়ি পিছু হটতে বাধ্য করেছিল। বৃষ্টিপাত পাখি দেখার বাধ সাধে। শশাঙ্ক এবং প্রণব রাত ৯ টায় পুনরাবৃত্তি ছাড়াই একটি দুই-নোটের জার্ডনস কোর্সারের ডাক শুনতে পান।
২৮শে আগস্ট ২০২৫, সকালের জলখাবারের পর, তাঁরা ২০০ কিলোমিটার লম্বা ড্রাইভে যান। পথে যে বেশিরভাগ আবাসস্থল দেখতে পান, সেগুলো তাঁদের পছন্দ হয়নি। সেগুলো হয় খুব ঝোপঝাড়, নয়তো খুব পাথুরে ছিল। সকাল ১০টায় শুরু করে মধ্যরাতে ফিরে এসে শেষ পর্যন্ত তাঁরা এমন একটি জায়গায় পৌঁছেছিলেন যা দেখতে ভালো ও পাহাড়ের চূড়ায় পরিখাও ছিল। বৃষ্টির জল সংগ্রহের জন্য সেগুলি খনন করা হয়েছিল। সেখানে একটি সন্দেহজনক ডাক শুনতে পান কিন্তু এটিকে জার্ডনস কোর্সারের ডাক ডাক হিসেবে গুরুত্ব দেননি। তাঁরা রাত ১০-টায় তাঁদের মূল এলাকার কাছাকাছি সমভূমিতে ফিরে আসেন। সেখানে সবাই মিলে একসঙ্গে আবার একটি একক দুই-নোটের জেরডন’স কোর্সারের ডাক শুনতে পান। এরও কোনো পুনরাবৃত্তি ছিল না। তবে, এবারও আমরা ডাকতে থাকা পাখিটিকে খুঁজে বের করতে পারিনি।
২৯শে আগস্ট ২০২৫, ইবার্ড ডাউনলোড ডেটা দেখে তারা সন্ধ্যা ৬-টার দিকে মাঠে যান, কারণ আইতান্না রাত ১১টার পরেই বেশিরভাগ পাখি দেখতে পেয়েছিলেন। অবশেষে তাঁরা মেনে নেন যে পাখিটির ছবি তোলা সত্যিই খুব কঠিন। তবে, থাঙ্গারাজ মনে করেন যে এটি সময়ের ব্যাপার – সঠিক সময়ে, সঠিক জায়গায় এবং সঠিক ঋতুতে ছবি তোলা সম্ভব।
অবশেষে, নির্ধারিত পরিকল্পনার একদিন আগেই ফিরে আসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও ঐতিহাসিকভাবে জেরডন’স কোর্সার একটি নতুন স্থানে পাওয়া গেছে, তবে সেই স্থানটি একটি ছোট টিলা, যা সমভূমি বা অন্যান্য টিলা থেকে বিচ্ছিন্ন।

আপাতত এই পাঁচজন পাখি পর্যবেক্ষকদের ফিল্ড গ্রুপ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জার্ডনস কোর্সারের বর্তমান অবস্থানটি জনসাধারণের থেকে বিচক্ষণতার সাথে গোপন রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। একই সাথে তাঁরা বর্তমান অবস্থান সংরক্ষণের জন্য সংগঠিত পদ্ধতিগুলি খোঁজার চেষ্টা করছেন। তাছাড়া অন্যান্য আরও বিকল্প জায়গাগুলোও সনাক্ত করার চেষ্টা করছেন। তাঁদের ধরনা খুব সম্ভবত একাধিক ভালো আবাসস্থলে এখনও এই বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া পাখি এখনও বিদ্যমান থাকতে পারে। খুব অল্প সময়ের মধ্যে সেইসব জায়গাগুলি দেখে ওঠা হয়নি। তাঁরা প্রাথমিক আবিষ্কারের পর সেই প্রধান আবাসস্থলগুলিতে যথেষ্ট সময় দিতে পারেননি, যেখানে সংযুক্ত পরিবেশে পাখিটিকে খুঁজে পাওয়া আরও সহজ হতে পারে।
থাঙ্গারাজ-এর মতে যেহেতু জারডন’স কোর্সার একটি অত্যন্ত বিপন্ন তফসিল ১ প্রজাতি, তাই অনুসন্ধানের সময় অবশ্যই সমস্ত সতর্কতা অনুসরণ করা উচিৎ। আফ্রিকা-ভারত সংযোগ মনে রেখে এই পাখির প্রজাতিটির প্রধান আবাসস্থলগুলি হারিয়ে যাওয়ার আগে বেঙ্গালুরু, কোলার, বিদার, তিরুপতি, হাম্পি, উত্তর তামিলনাড়ু, শেষচলম, মাইলাভারম, এলকেএম, কুম্বাম, প্রকাশম, নেলোর প্রভৃতি অঞ্চলের ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা জঙ্গলগুলি অনুসন্ধান করা উচিত। পরবর্তী জার্ডনস কোর্সারের আবিষ্কারের জন্য হাতে বছরের পর বছর অপেক্ষা করার মতো সময় হয়ত আর পাওয়া যাবে না, কারণ মনুষ্য সমাজ তাদের চারপাশের ঝোপঝাড় বন হারাতে বসেছি। সময় ফুরিয়ে আসছে। দক্ষিণ ভারত এবং এমনকি মহারাষ্ট্র জুড়ে বিচ্ছিন্ন এলাকায় এখনই অনুসন্ধানের জন্য পাখিপ্রেমীদের অবশ্যই এগিয়ে আসতে হবে।
তথ্যসূত্রঃ-

বিশ্ব রঞ্জন গোস্বামী
বিজ্ঞান লেখক। অবসর প্রাপ্ত সরকারী আধিকারীক, পশ্চিম বঙ্গ সরকার সদ্যস, জীব বৈচিত্র সংরক্ষন একাডেমি, কলকাতা ও বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটি।
