বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানেই কি পরিবেশ ধ্বংস করা?
-: বিজ্ঞান ও বিজ্ঞানী প্রবন্ধ প্রতিযোগীতা ২০২০-র জন্যে মনোনীত প্রবন্ধ :-

ছোট থেকে বাংলা পরীক্ষায় প্রবন্ধ রচনার এক অতি পরিচিত বিষয় হল ‘বিজ্ঞান আশির্বাদ না অভিশাপ’। এই বিষয়টি আজও প্রাসঙ্গিক। অনেকেই মনে করেন বিজ্ঞানের যত অগ্রগতি হচ্ছে, প্রকৃতি ততই ধ্বংসের পথে এগোচ্ছে। বিজ্ঞানের তৈরী অস্ত্রশস্ত্র আজ একটি দেশের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে সক্ষম। কলকারখানা থেকে উৎপন্ন বিভিন্ন বিষাক্ত পদার্থ ঘটাচ্ছে বায়ুদূষণ, জলদূষণ, মৃত্তিকাদূষণ। বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতেই উৎপন্ন প্লাস্টিকের ক্ষতিকারক প্রভাব সম্পর্কে আমারা প্রত্যেকেই অবগত। তবে কি বিজ্ঞান আমাদের পরিবেশের পক্ষে একটি অভিশাপ? বিজ্ঞানের অগ্রগতি মানেই কি পরিবেশ ধ্বংস করা?
উত্তর : না!
বিজ্ঞান যেমন দূষণের সৃষ্টি করেছে, ঠিক তেমনিই দূষণ নিয়ন্ত্রণের উপায়ও বের করেছে। ক্যাটালাইটিক কনভার্টার, ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর, সাইক্লোন সেপারেটর, ওয়েট স্ক্রাবার ইত্যাদি যন্ত্রের সাহায্যে বায়ু দূষণের হাত থেকে বাঁচা যায়। যানবাহনের পরিত্যক্ত ধোঁয়া যাতে বায়ুতে না মেশে, সেই জন্য ক্যাটালাইটিক কনভার্টার ব্যবহার করা হয়। বায়ু থেকে ধুলো ও ধোঁয়া অপসারণের জন্য ইলেকট্রোস্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটর ব্যবহার করা হয়। ওয়েট স্ক্রাবার দিয়ে বায়ুতে জল সিঞ্চন করে বায়ুর সালফার ডাইঅক্সাইড দূর করা যায়। এছাড়া বর্তমানে গাড়ি থেকে নির্গত ক্ষতিকারক ধোঁয়া থেকে পেনের কালি তৈরি করা হচ্ছে। এই বায়ু দূষণ নিয়ন্ত্রিত হলে ‘অ্যাসিড বৃষ্টি’ হবে না। ফলে মৃত্তিকা দূষণও অনেকাংশে কমবে। জলদূষণ রোধের জন্য বিভিন্ন ধরনের ফিল্টার ব্যবহার করা যায়। আগে বিভিন্ন শুষ্ক বর্জ্য পদার্থ কে সাধারণত পুড়িয়ে নষ্ট করা হত। কিন্তু খোলা স্থানে পোড়ালে দুর্গন্ধ বেরোয় এবং বায়ু দূষণ হয়। এই সমস্যা দূর করার জন্য এখন Cumbustion chamber -এ 1650°C তাপ প্রয়োগ করে, বিনা অক্সিজেনে দহন ঘটানো হয়। এতে কোনো ক্ষতিকারক গ্যাস নির্গত হয় না, ফলে বায়ু দূষণ ঘটে না।
ভার্টিকাল গার্ডেন:-
বৃক্ষরোপন দূষণ নিয়ন্ত্রণের এক প্রচলিত পদ্ধতি। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে দূষণ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রায়ই বৃক্ষরোপন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কিন্তু এমন অনেক গাছ – গাছালি আছে, যা জনজীবনের ক্ষতি করতে পারে। যেমন ছাতিম ফুলের গন্ধ শ্বাসকষ্টের রোগীদের পক্ষে ক্ষতিকারক। বিজ্ঞান আমাদের সেই সকল গাছ- গাছালি চিনিয়ে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বৃক্ষরোপন করতে শিখিয়েছে।

শহরাঞ্চলে সবুজায়নের ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হল জায়গায় অভাব। বিপুল জনসংখ্যার বাসস্থানের জন্য মাল্টিস্টোরেড বিল্ডিংয়ের প্রয়োজন। আবার সবুজায়নেরও দরকার। বিজ্ঞানের অগ্রগতিতে এই সমস্যারও সমাধান হয়েছে । বড়ো বড়ো বিল্ডিংয়ের মধ্যেই অত্যন্ত কম খরচে তৈরি করে নেওয়া যায় বাগান। এই ধরনের বাগানকে বলা হয় ‘ভার্টিকাল গার্ডেন’। অনেকে এই পদ্ধতিকে ‘গ্রিণ ওয়াল’ পদ্ধতিও বলেন। সাধারণত হাইড্রোপনিক্স পদ্ধতিতে এরূপ বাগান তৈরি করা হয়।
প্লাস্টিক দূষণ:-
এবার আসা যাক প্লাস্টিক দূষণের ব্যাপারে। প্লাস্টিকের সবচেয়ে বড় সুবিধা ও অসুবিধা হল এটি জৈব বিশ্লেষ্য নয়। ফলে একই প্লাস্টিক বছরের পর বছর ধরে ব্যবহার করা যায়। আর এর ফলেই দেখা দিচ্ছে সমস্যা। দেখা যাচ্ছে 1979 সালে যে প্লাস্টিক ক্যারিব্যাগটি প্রথম বাজারে এসেছিল, তা এখনো প্রকৃতিতে বিরাজমান, এবং তা কম করে আরও 500-600 বছর থাকবে। এই প্লাস্টিক স্তুপাকারে জমা হয়ে নদী- নালার নাব্যতা কমিয়ে ফেলছে , তাদের গতিপথ রুদ্ধ করছে। জলজ প্রাণীরা প্লাস্টিক ব্যাগকে ভক্ষণ করে ফেলছে [প্লাস্টিকের ক্যারিব্যাগকে তারা জেলিফিস ভেবে খেয়ে ফেলে]। এর ফলে তাদের মৃত্যু ঘটছে। আবার জলজ প্রাণীদের সামুদ্রিক পাখিরা ভক্ষণ করে। ফলে তাদের দেহেও সেই প্লাস্টিক প্রবেশ করছে এবং তাদের মৃত্যু ঘটছে। এই ভাবে প্লাস্টিক একে একে খাদ্যের পিরামিডে প্রবেশ করে বিভিন্ন শ্রেণীর প্রাণীদের জীবন বিপন্ন করছে।

বিজ্ঞানীরা এই সমস্যার সমাধান অনেকটাই করে ফেলেছে। তারা পরীক্ষাগারে এমন কয়েক প্রকার ব্যাক্টেরিয়া (Pseudomonas aeruginosa) এবং ফাংগি (Penesilium sp.) ডিজাইন করতে সক্ষম হয়েছে যারা 50% – 70% প্লাস্টিক (পলি-ইথিলিন) ভক্ষণ করে। এর ক্ষমতা আরও বাড়ানোর জন্য গবেষণা চলছে।
বিজ্ঞানের উন্নতিতে যেমন প্লাস্টিকের বিভিন্ন বিকল্প এসেছে, তেমনই বর্তমানে প্রকৃতিতে উপস্থিত প্লাস্টিক বর্জ্যেও পুনঃব্যবহার করা সম্ভব হয়েছে।
ইউক্রেনে প্লাস্টিক বর্জ্য থেকে তন্তু বের করে তা থেকে জামা – প্যান্ট – জ্যাকেট ইত্যাদি তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের দেশে সায়ানা ইকোইউনিফায়েড ইন্ডিয়ার কর্ণধার পারস সালুজা প্লাস্টিক জাত বর্জ্য থেকে ফ্লোর টাইলস তৈরি করেছেন, এবং এর দাম সাধারণ ফ্লোর টাইলসের থেকে কম। এমনকী প্লাস্টিককে পিচের মতো গলিয়ে রাস্তা নির্মাণের কাজে ব্যবহার করা যায়। এই ধরনের রাস্তাকে বলা হয় ‘গ্রিন রোড’। এই ‘গ্রিন রোড’ বা প্লাস্টিকের তৈরি রাস্তা কয়লার পিচের তুলনায় অনেক বেশি টেকশই। এই ধরনের রাস্তায় কোনো ফাটল বা গর্তের সৃষ্টি হয় না।

প্লাস্টিকজাত সামগ্রী আমাদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে এমন ভাবে জড়িয়ে আছে যে তা ত্যাগ করা প্রায় অসম্ভব। বিজ্ঞানীরা এরও সমাধান বের করেছেন। এনভিগ্রিন (Envigreen) নামক একটি আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রথম জৈব বিশ্লেষ্য ক্যারিব্যাগ বেড় করে সমগ্র বিশ্বকে তাক লাগিয়ে দেয়। আমাদের দেশের ব্যাঙ্গালুরুতে বায়োগ্রিন (BioGreen) নামে একটি সংস্থা বিভিন্ন ধরনের জৈব বিশ্লেষ্য সামগ্রী তৈরি করে, যেগুলি প্লাস্টিকের পরিবর্তে ব্যাবহার করা যায়। তাদের উৎপাদিত বিভিন্ন দ্রব্যের মধ্যে রয়েছে জৈব বিশ্লেষ্য ক্যারিব্যাগ, বোতল, কাপ ( one time use) , প্লেট (one time use), গার্বেজ ব্যাগ ইত্যাদি। এই সামগ্রীগুলি তৈরি হয় কাসাভা নামক একপ্রকার গাছ থেকে। এছাড়া রেজিন, স্টার্চ ইত্যাদি দিয়েও তৈরি করা হয়।

দোয়াত কলমের ব্যবহারশেষ হয়েছে বহু যুগ আগে। কালি ভরা কলমের পর্বও ফুরিয়েছে। তারপরে প্লাস্টিকের রিফিল-কলম হয়ে এখন ইউজ-অ্যান্ড-থ্রো কলমের যুগ। অর্থাৎ সবটাই প্লাস্টিকে এসে শেষ হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই, এই সব প্লাস্টিকের কলম ব্যবহারের কারণে সারা বিশ্ব জুড়ে অনেকটাই বেড়েছে প্লাস্টিক-দূষণ। এইবার সেই দূষণ রোখার অভিনব উপায় বার করেছেন ভুবনেশ্বরের দুই যুবক— প্রেম পাণ্ডা এবং মহম্মদ আহমেদ রাজা। কাগজ, আনাজ, ফল, ফুল ইত্যাদি ব্যবহার করে পরিবেশ-বান্ধব কলম বানিয়েছেন তাঁরা। এই কলমও একবার ব্যবহার করে ফেলে দিতে হবে। কিন্তু ফেলে দেওয়ার পরে তা প্রকৃতিতে মিশে যাবে, কোনো ক্ষতি করবে না। তাঁরা এই উদ্যোগকে নাম দিয়েছেন ‘লিখনা’। এই কলমের ভিতরের রিফিলটি প্লাস্টিকের হলেও কলমের বাইরেটা প্লাস্টিকের বদলে কাগজ দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। ভিতরের রিফিলটাও যাতে প্লাস্টিকের বদলে অন্য কোনো পরিবেশ-বান্ধব উপাদান দিয়ে তৈরি করা যায় সেই চেষ্টা করছেন তাঁরা। তাঁদেরই তৈরি করা একটি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে তৈরি হচ্ছে এই কাগজের কলম। এই কলমের বডিগুলি তৈরি হয়েছে কাগজ, আনাজের খোসা ইত্যাদির মিশ্রণ দিয়ে। এই কলম ব্যবহার করেফেলে দিলে তা প্রকৃতির কোনো ক্ষতি করবে না। শুধু তাই না, এই কলম তৈরি করতে ব্যবহৃত হচ্ছে কিছু বীজও। যার ফলে এই কলমগুলি মাটিতে পুঁতে দিলে তা থেকে গাছও বেরোবে। এই কলমের দাম খুবই কম (মাত্র 5 থেকে 7 টাকা)।

এই না হয় গেল বিজ্ঞানের অগ্রগতি কীভাবে দূষণ নিয়ন্ত্রণ করছে সেই বিষয়। এবার আসা যাক বিজ্ঞান কীভাবে এন্ডেমিক (endemic) , এন্ডেনজার্ড (endangered) বা বিপন্নপ্রায় প্রজাতির জীবদের রক্ষা করছে সেই বিষয়ে।
উদ্ভিদ প্রজাতির বংশ রক্ষা ও বিস্তার:-
বিজ্ঞানীরা কোনো উদ্ভিদ প্রজাতির বংশ রক্ষা ও বিস্তারের জন্য বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে থাকেন। তার মধ্যে মাইক্রোপ্রোপাগেশান (Micopropagation) বা অনুবিস্তারণ পদ্ধতি হল অন্যতম। এই পদ্ধতিতে নির্দিষ্ট উদ্ভিদের একটি ছোট অংশ কেটে নিয়ে তাকে আগার যুক্ত পুষ্টি মাধ্যমে (nutrient medium) রাখা হয়। এবার এই অংশটি আস্তে আস্তে বড় হয়ে একটি গোটা গাছে রূপান্তরিত হয়। এর ফলে একটি মাত্র গাছ থেকে একই প্রজাতির অসংখ্য গাছের জন্ম দেওয়া সম্ভব। এই পদ্ধতিতে গাছের বৃদ্ধি অত্যন্ত দ্রুত হারে ঘটে এবং এর ফলনও বেশি হয়। ফলে যেসমস্ত উদ্ভিদ বিলুপ্তির পথে, তাদের রক্ষা করা যায়, অর্থনৈতিক দিক থেকে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভিদ, ভেষজ উদ্ভিদ ইত্যাদির যোগানও খুব দ্রুত দেওয়া যায়।
বায়োটেকনোলজি বা জৈবপ্রযুক্তিবিদ্যার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা উদ্ভিদ ও প্রাণীদের বিভিন্ন মারণ রোগ নিরাময়েও সচেষ্ট হয়েছেন। যেমন – উদ্ভিদের একপ্রকার টিউমার বা ক্রাউন গল ডিজিজ (crown gall diseases) নিরাময় করা সম্ভব হয়েছে।
প্রাণীদের ক্ষেত্রে ক্লোনিং এর মাধ্যমে সমগুণ সম্পন্য প্রজাতির বংশবৃদ্ধি করা সম্ভব, তবে এর বেশ কিছু অসুবিধা রয়েছে। বিজ্ঞানীরা সেই অসুবিধাগুলি দূর করার চেষ্টা করছেন। বর্তমানে ইন-সিটু সংরক্ষণ [নিজ পরিবেশে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ। যেমন – অভয়ারণ্য (উদাহরণ :- জলদাপাড়া), বায়োস্ফিয়ার রিজার্ভ (উদাহরণ:- সুন্দরবন ), সংরক্ষিত বনাঞ্চল (উদাহরণ :- গোরুমারা), জাতীয় উদ্যান ইত্যাদি(উদাহরণ:- গির)।] এবং এক্স-সিটু সংরক্ষণ (নিজস্ব প্রাকৃতিক আবাসস্থলের বাইরে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা। যেমন- চিড়িয়াখানা, বোটানিক্যাল গার্ডেন ইত্যাদি) এর মাধ্যমে জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হয়। এছাড়া হট স্পট (Hot spot) চিহ্নিত করে, বিপন্ন প্রাণীদের লিপিবদ্ধ করে ‘Red Data Book’ গঠন করে জৈববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করা হয়। বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে তৈরি হয়েছে নিত্য নতুন যন্ত্র, যার সাহায্যে চোরা শিকারীদের রোখা সম্ভব হয়েছে।
কথায় আছে ‘বাঙালি মাছে ভাতে’। সুতরাং বোঝা-ই যাচ্ছে যে সারা বছরই বিপুল পরিমাণ মাছের যোগান দিতে হয় মাছওয়ালাদের। পরীক্ষা করে দেখা গেছে যে মানুষ কেবল 3-4 রকমেরই মাছ সারা বছর খান। ফলে দেখা যাচ্ছে সেই প্রজাতির নতুন মাছ জন্মানোর সময়টুকু পাচ্ছে না এবং সেই প্রজাতির মাছেদের সংখ্যা ক্রমশ কমে আসছে। এই সমস্যা দূর করার জন্য এসেছে ‘Fish calendar‘। বিভিন্ন প্রজাতির মাছেদের Breeding season বা প্রজননের সময় আলাদা। সব ঋতুতে সব মাছ পাওয়া যায় না। সব ঋতুতে যেমন সব রকমের ফল পাওয়া যায় না, ঠিক তেমনিই এই বিষয়টা। এই বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে কোন মাসে কী কী মাছ খাওয়া যাবে সেই নিয়ে তৈরি হয়েছে এই ‘Fish calendar’। ফলে নির্দিষ্ট কোনো শ্রেণীর মাছের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে না।
বিজ্ঞান অবশ্যই পরিবেশের পক্ষে কল্যাণময়ী। বিজ্ঞান যেন এ যুগের তিলোত্তমা যার হাতে আছে অমৃতভান্ডার। বিজ্ঞানের অগ্রগতিকে সঠিক পথে পরিচালনা করলেই তা পরিবেশ সুরক্ষা সুনিশ্চিত করবে।

শৌভিক দে
বর্তমানে সাংবাদিকতা ও গণ জ্ঞাপন বিভাগের ২য় বর্ষের ছাত্র। বিজ্ঞান জ্ঞাপন অবং ভ্রমণ বিষয়ে আগ্রহী।
