Featured Post-বিশেষ নিবন্ধFree ArticlesLife Science-জীববিজ্ঞানPopular Science-জনপ্রিয় বিজ্ঞান

দুই দশকের নীরবতা ভেঙ্গে আবারও ডাক দিল জার্ডনস কোর্সার-পর্ব ১

অন্ধ্রপ্রদেশের লঙ্কামাল্লা পাহাড় থেকে নিখোঁজ জার্ডনস কোর্সার (Jerdon’s Courser) পাখির খোঁজ পাওয়া গেল ১৬ বছর পর। লঙ্কামাল্লার ৩ x ৪ কিমি অংশের বাইরেও এর দেখা মিলল প্রায় ১২৫ বছর পর। এখানে আরেকটি খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শ্রীলঙ্কামল্লেশ্বর বন্যপ্রানী অভয়ারণ্যের (Lankamalleswara Wildlife Sanctuary) একমাত্র পরিচিত আবাসস্থলের বাইরে এদের প্রথম দেখা গেল। এই নিবন্ধটি হরিশ থাঙ্গারাজের ব্লগের হোম পেজ থেকে সংগৃহিত তথ্যের উপর ভিত্তি করে লেখা।

হরিশ থাঙ্গারাজ একজন বিখ্যাত পাখিপ্রমিক। উনি ও তার অন্যান্য হকর্মীরা যেমন আদেশ শিবকার, রনিথ উরস, শশাঙ্ক দালভি (Shashank Dalvi) ও প্রনভ বাজপায়েম সহ ভারতীয় পাখি পর্যবেক্ষকদের একটি দল ভারতে ১০টি প্রায় বিলুপ্ত ও হারিয়ে যাওয়া পাখির প্রজাতির খোঁজার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে অনুসন্ধান চালিয়ে আসছেন।

তাঁরা ইতিমধ্যে ২০২৪ সালের ১০ই অক্টোবর আন্দামান- নিকোবর দ্বীপপুঞ্জে বার্মার সমুদ্র উপকুল কেন্দ্র থেকে ১৬০ কিমি দুরে নারকোন্ডাম হর্নবিল খুঁজে পান। ২০২৫ সালের ফেব্রয়ারীর প্রথম দিকে পশ্চিম রাজস্থানের মেরু অঞ্চলে ধনানা-মুরার এলাকায় সিন্ধু কাঠঠোকরা (Sind woodpecker) এবং এই বছরের জুলাই মাসে লাদাখে লং বিল্ড বুশ ওয়ারব্লার পরপর পূনরাবিস্কারের পর হরিশ থাঙ্গারাজ ও আদেশ শিবকার এই বছরের অগাষ্ট মাসে হারিয়ে যাওয়া পাখি জার্ডনস কোর্সার (Rhinoptilus bitorquatus) খুঁজে বের করার উদ্দেশ্যে বেরিয়ে পড়েন। গত ২৪ শে অগাষ্ট তাঁরা কিংবদন্তি পাখিটির ডাক রেকর্ড করেন। এই অভিযানের জন্য তাঁদের মাত্র দুই সপ্তাহের প্রস্তুতি ছিল।

বিখ্যাত পাখিপ্রমিক হরিশ থাঙ্গারাজ | ছবিঃ harryfication.wordpress.com

১৯০০ সালের জুন মাসে, আইরিশ ধর্মপ্রচারক হাওয়ার্ড ক্যাম্পবেল অন্ধ্র প্রদেশের পেন্নার এবং গোদাবরী নদীর জলাধার এলাকাতে আরো দুবার এদেরকে দেখতে পেয়েছিলেন বলে জানা যায়। প্রজাতিটি আবার অনেক বছর ধরে অধরাই ছিল। পাখিটি বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে ধারনা করা হয়েছিল। যার জন্য খুব কম লোকেই জানত জার্ডনের কোর্সার দেখতে কেমন বা তাঁদের ডাকের শব্দ কি রকম শুনতে।

প্রায় ৮৬ বছর পর আবার ১৯৮৬ সালের জানুয়ারী মাসে পাখি পর্যবেক্ষকরা এই নিয়ে একটি আশার আলো দেখতে পান। আসলে তখন আইতান্না নামে একজন রাখাল অন্ধ্রপ্রদেশের কন্ডুর আভার কাছে শ্রীলঙ্কামালেশ্বরা অভয়ারণ্যে এদের দেখতে পেয়েছিল। সেখানে সে একটি পাখির ফাঁদ পেতে রেখেছিল। সেদিন ভোর বেলায় টর্চ লাইটের আলোয় সেই সময় রাখাল বালক দুটি জীবন্ত জার্ডনস কোর্সার পাখি দেখতে পায়। কিন্তু বিজ্ঞানীরা সেখানে পৌঁছনোর আগেই একটি পালিয়ে যায়। আরেকটিকে সে দৌড়ে গিয়ে ধরে ফেলে। জ্যান্ত পাখিটিকে ধরে বাড়ী নিয়েও যায়। তারপর বোম্বে ন্যাচারাল হিষ্টি সোসাইটির একজন পক্ষীবিদ ভরত ভূষনকে ছেলেটি জরুরী খবর পাঠায় পাখিটিকে তাড়াতাড়ি সনাক্ত করার জন্য।

ভরত ভূষন না পৌঁছনো পর্যন্ত আইতান্না পাখিটিকে জীবিত রাখার আপ্রাণ চেষ্টা করে। সেদিন ছিল প্রবল বৃষ্টি। তাই ভরত ভূষনের ঘটনাস্থলে পৌঁছতে ১৫ই জানুয়ারী হয়ে যায়। সেই জায়গায় পৌঁছে পাখিটিকে দেখার জন্য ভরত ভূষন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ভারতীয় পাখি বিজ্ঞানের নেতৃস্থানীয় ব্যাক্তিত্ব ডঃ সেলিম আলি পাখিটিকে দেখার জন্য খুব তাড়াহুড়ো করে ছুটে আসেন। কিন্তু উনি ১৯শে জানুয়ারী পৌঁছনোর কয়েক ঘন্টা আগেই পাখিটি মারা যায়। তার নমুনা এখন বোম্বে ন্যাচারাল হিষ্টি সোসাইটির সংগ্রহশালায় রাখা আছে।

১৯৯৪-৯৫ সালে এক সমীক্ষায় মনে করা হয় পাখিটি কেবল লঙ্কামাল্লায় পাওয়ার সম্ভবনা আছে, যদিও কাজটি পাঁচটি জেলা জুড়ে হয়েছিল। ২০২৫ সালে বিজ্ঞানীরা নূতন এক জায়গায় সন্ধান পেলেন।

এই বছরের জুলাই মাসে লাদাখে লং বিল্ড বুশ ওয়ারব্লার পরপর পূনরাবিস্কারের পর অতুল জৈন পরামর্শ দিয়েছিলেন অধরা জার্ডনস কোর্সার-এর খোঁজার পরবর্তী চেষ্টা করা উচিত। সেদিনেই হরিশ থাঙ্গারাজ ত্রিবেদীকে ফোন করে বলেছিলেন নেটওয়ার্কিং দিয়ে জার্ডনস কোর্সার পাখিটি খুঁজে পাওয়া যেতে পারে। ব্যার্থতা আসতে পারে জেনেও থাঙ্গারাজ সেসব আমল না দিয়ে তার লক্ষে পৌঁছে যাওয়ার চেষ্টা শুরু করেন। শেষ পর্যন্ত হাল না ছেড়ে এই বছরের অগাষ্ট মাসে সফল হন।

এই প্রজাতিটি নিয়ে থাঙ্গারাজ আগেই তিন বছর ধরে একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা বলেছিলেন। তার মনে হয়েছিল একমাত্র যারা গবেষক বহু বছর ধরে এটির অনুসন্ধান করছেন তাঁরাই পারবে এই অধরা রাতের পাখিটির সন্ধান দিতে। সমীক্ষার শুরুতে তাঁরা ভেবেছিলেন ১০টি অভিযানের মধ্যে পাখিটিকে খুঁজে পাওয়ার সম্ভবনা। তিনি নিজে মনে করেছিলেন ২০২৬ এর পর পাখিটির সন্ধান চালিয়ে যাওয়া আর বুদ্ধিমানের কাজ হবে না।

আদেশ শিবকার, মুম্বাইয়ের একজন অভিজ্ঞ পাখিপ্রেমী প্রায় দুই দশক আগে জার্ডনস কোর্সার-এর খোঁজার জন্য চিন্তা ভাবনা শুরু করেন। লাদাখে লং বিল্ড বুশ ওয়ারব্লার পূনরাবিস্কারের পরেই হরিশ থাঙ্গারাজকে আদেশ তার এই ইচ্ছার কথা জানান। ২৮ শে জুলাই আদেশ ও থাঙ্গারাজ লাদাখে বসেই অনেকক্ষন ধরে দুজনে এই নিয়ে আলোচনা করে মত বিনিময় করেন ও খুব তাড়াতাড়ি একটি অভিযানের পরিকল্পনা করতে রাজী হলেন।

৩০ শে জুলাই থাঙ্গারাজ আদেশকে জিজ্ঞাসা করলেন অগাষ্টের শেষের দিকে যেতে পারবেন কিনা। আদেশ পরের দিনেই রাজী হয়ে গেলেন। সাধারনত আদেশ এত অল্প সময়ের নোটিসে রাজী হন না। থাঙ্গারাজ মনে মনে অগাষ্টের ২৩ থেকে ৩১শে এর ভিতর তারিখের মধ্যে অভিযানের দিন ঠিক করে রেখেছিলেন।

অগাষ্টের প্রথম দিকে থাঙ্গারাজ মিজোরামে অন্য আরেকটি কাজে ব্যস্ত থাকার পর ৮ই অগাষ্ট তিনি রনিথ উরসকে ফোনে যোগাযোগ করেন। রনিথ ফোন পেয়েই কোন কিছু জিজ্ঞাসা না করেই জার্ডনস কোর্সারের উপর তার গত দুই বছর ধরে যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন তা থাঙ্গারাজের সাথে শেয়ার করেন। তার কথা শুনে থাঙ্গারাজকে কিছুটা অবাক করে দেয়।

থাঙ্গারাজ রনিথকে অগাষ্টের শেষের দিকে ট্রিপে যোগদান করার আমন্ত্রন করেন। রনিথ কয়েক দিন পর ২৬শে অগাষ্ট তাঁদের সাথে যোগ দেবেন বলে জানান। তাই ঠিক হয় আদেশ ও থাঙ্গারাজ অগাষ্টের ২৩ থেকে ৩১শে একটা সেলফ ড্রাইভ গাড়ী ভাড়া নিয়ে অনুসন্ধান করবেন যেখানে রনিথ পরে যোগ দেবেন। তাঁরা পুরো ট্রিপ জুড়ে একজন ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যানকে তেলেগু ভাষা শেখাতে ও অতিরিক্ত সুরক্ষার জন্য প্রতিটি জায়গায় একজন স্থানীয় গ্রামবাসীকে রাখার পরিকল্পনা করেন। আদেশ স্বেচ্ছায় কাজটি করেছিলেন।

১৩ই অগাষ্ট শশাঙ্ক দালভি এই ট্রিপে যোগদানের প্রস্তাব দেন। তাঁরা আগে পরিকল্পনা করেন ডালডি মুম্বাই থাকাকালীন তার সাথে দেখা করবেন। কিন্তু তা আর হয়ে উঠেনি। তিনি পরে তার আরেক বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ বন্ধু প্রনভ বাজপায়েমকে সাথে নেওয়ার কথা জানান। প্রনভ, শশাঙ্ক ও রনিথ ২৬শে অগাষ্ট এই তিনজন তাঁদের সাথে যোগ দেবেন বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাই আরোও একটি গাড়ী ভাড়া নেওয়ার কথা ঠিক হয়। আর থাঙ্গারাজ ও আদেশ ২৩শে অগাষ্ট থেকে টহল দেওয়া শুরু করবেন।

২১শে অগাষ্ট – আদেশ আর শশাঙ্ক দুজনেই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে একজন তেলুগুভাষী ফিল্ড অ্যাসিসস্ট্যানকে আনার জন্য ব্যবস্থা শুরু করেন। অবশেষে ট্রিপের মাত্র ৪৮ ঘন্টা আগে মনোজকে যোগাড় করা গেল। সে পাখিটি সম্পর্কে স্থানীয়দের সাথে দোভাষী হিসাবে কথা বলতে ও যে কোন প্রতিকুল পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাহায্য করার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দেয়।

২১শে জুলাই, ২০২৫, থাঙ্গারাজ লাদাখ থেকে ফেরার ফ্লাইটে বসেই ‘Jerdon’s Courser Homework Group’ নামে একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করেন। জার্ডনস কোর্সারের উপর পাওয়া বিভিন্ন গবেষণাপত্রের হাতে লেখা রেফারেন্স সহ নোটগুলি পড়তে শুরু করেন। পাখিটি সম্পর্কে পাওয়া বিভিন্ন ইউটিউব ভিডিও ডাউন লোড করে দেখাও শুরু করেন।

২২শে জুলাই – ৩০শে জুলাই, ২০২৫, তাঁর পরিকল্পনা চূড়ান্ত করার জন্য ভারতের পাখি সম্পর্কে অভিজ্ঞ প্রভিন জয়াদেভান (Praveen Jayadevan) ও শশাঙ্ক দালভি ছাড়াও এমন অনেক লোকের সাথে কথা বলেন। তাঁদের মতামতগুলি খুব গুরুত্বপূর্ণ কারণ তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করতে, অর্থের চাহিদা, সরবরাহ, ক্ষমতা, খরচ, সম্ভাব্য ঝুঁকির ব্যবস্থাপনা ইত্যাদির ধারনা করা সম্ভব। এই ধরনের পূনঃআবিস্কারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উৎস হলো গুগুল বার্ডিং যা ট্রিপের সময় ব্যবহার করা হয়েছিল।

থাঙ্গারাজ পরের তিন সপ্তাহ প্রভিন-এর সাথে বহুবার ফোন করে যোগাযোগ করেছিলেন। তিনি জার্ডনস কোর্সার অনুসন্ধানের উপর অপ্রকাশিত তথ্য শেয়ার করেন। প্রভিন থাঙ্গারাজকে মুম্বাইতে ভরত ভূষন-এর সঙ্গে দেখা করার কথা বলেন। তাছাড়া তিনি এই পাখির উপর গবেষণাকারী পি. জেগান্নাথন-এর (P Jeganathan) ফোন নম্বর ও আরও প্রাসঙ্গিক তথ্য শেয়ার করেন। ভরত ভূষণ ও জেগান্নাথন-এর সাথে দেখা করার সময় কাজে লাগবে বলে থাঙ্গারাজ জার্ডনস কোর্সারের উপর প্রশ্নের একটি তালিকাও তৈরি করেন। ভরত ভূষণ-এর লেখা গবেষনাপত্রটিও পড়ে দেখেন থাঙ্গারাজ, পরে যেটা ভীষণভাবে কাজে লেগেছিল আই বিলুপ্তপ্রায় পাখিটিকে খুঁজে বের করতে।

৩১ জুলাই, ২০২৫, অশ্বিন বিশ্বনাথন (Ashwin Viswanathan) ই-বার্ড ডেটা (eBird data) ডাউনলোড করতে সাহায্য করেছিলেন। এইসব তথ্য পরবর্তীতে খুটিনাটি সিদ্ধান্ত নিতে খুব সাহায্য করেছিল।

৯ অগাস্ট, ২০২৫, থাঙ্গারাজ অসীম কোঠিয়ালার (Aseem Kothiala) মাধ্যমে মুম্বাই বিশ্ববিদ্যালয়ের লাইব্রেরিতে পড়াশোনার সুযোগ পান। সেখানে তিনি পাখিটির আকার, আবাসস্থল, প্রজননের সংক্রান্ত ইত্যাদি তথ্য অনুসারে তিনটি রাইনোপ্টিলাস (Rhinoptilus) প্রজাতির তুলনা করেন। ট্যু ব্যান্ডেড কোর্সারের (Two-banded Courser) তথ্যও যোগাড় করেন কারণ এটিকে একসময় রাইনোপ্টিলাস প্রজাতি বলে গন্য করা হতো। এটি জার্ডনস কোর্সার অনুসন্ধানের বিষয়ে আরও ভালভাবে বুঝতে সাহায়্য করেছিল।

আরেকটি মজার বিষয় জানা যায় যে এই পাখিরা খুব সম্ভবত আদিম আফ্রিকার রাইনোপ্টিলাস (African Rhinoptilus)-দের গোত্রিয়। এদের নিকট আত্মীয় থ্রী ব্যান্ডের কোর্সার কেবলমাত্র সাভানা বনভূমির পূর্ব আফ্রিকাতেই পাওয়া যায়। আফ্রিকার পূর্ব প্রান্ত থেকে যখন গন্ডওয়ানাল্যাণ্ড ভেঙে ভারতের মূল ভূখণ্ড তৈরি করে তখন এই পাখির আবাস্থল এদিকেও ছড়িয়ে পরে। এই পাখিটি হয়ত একসময় কর্ণাটক, অন্ধ্র,মহারাষ্ট্র ও সম্ভবত তামিলনাড়ুতে পাওয়া যেত। তাই অনুমান করা যায় এটি এখনও এই রাজ্যগুলিতে থাকতে পারে।

(বাঁ দিক থেকে) শশাঙ্ক দালভি, হরিশ থাঙ্গারাজ, আদেশ, রনিথ উর্‌স, প্রনভ বাজপায়েম | ছবিঃ harryfication.wordpress.com

১৯৮৬ থেকে ১৯৯৪ সালে পর্যবেক্ষণের ২০টি জায়গা থেকে পাখিটি সম্পর্কে নিশ্চিত, তবু অপ্রমানিত তথ্য হাতে পান। কিন্তু তার মনে প্রশ্ন জাগে কেন গত দুই প্রজন্মের কোন মানুষ বা প্রতিষ্ঠান সেইরকম বা কাছাকাছি জায়গায় পাখিটির খোঁজ করেনি, হতে পারে পাখিটি সেখানে বেশি সংখ্যায় ছিল।

থাঙ্গারাজ অবাক হয়ে গেছিলেন বিবির থিসিসে উল্লেখ করা ১০০ বর্গ কিলোমিটার জায়গা এখন আজ কোন অস্তিত্ব নেই কারণ সেগুলি কৃষি জমিতে পরিনত হয়েছে।

১৫ই আগাষ্ট, ২০২৫, তাঁরা মুম্বাইতে আদেশ, শশাঙ্ক ও থাঙ্গরাজ দেখা করে মত বিনিময় করেছিলেন। এরপর তাঁরা তিরুপতি বা চেন্নাই বাদ দিয়ে অভিযানের শুরুটা বেঙ্গালুরু থেকে ঠিক করেন, কারণ তিরুপতির কাছে নাগরী পাহাড়ের সমভূমি এখন বদলে গেছে।

১৮শে আগাষ্ট শেষ পর্যন্ত ভরত ভূষণ তাঁদের সাথে দেখা করে এই নিয়ে বিভিন্ন তথ্য ভাগ করে নেন। ততদিনে থাঙ্গরাজ বেশিরভাগ প্রশ্নের উত্তর পেয়ে গেছেন। কিন্তু ভরত ভূষণ তার এই পাখির বিষয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতা ও আরও কিছু বিষয় তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

প্রসঙ্গক্রমে ভরত ভূষণ তাঁদেরকে বলেছিলেন ১৮০০ শতকে যদি উত্তরের গোদাবরী নদী উপত্যকা ও দক্ষিণের পেন্না নদী উপত্যকা উভয় জায়গা থেকে সংগ্রহ করা হয়ে থাকে, তবে কৃষ্ণা নদী উপত্যকা থেকে কোন জার্ডনস কোর্সার-এর রেকর্ড নেই।

১৮৪৮ সালে কোডপ্পায় জার্ডনস কোর্সার আবিস্কৃত হয়েছিল, কিন্তু ১৮৫৭ সালে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে সিপাহী বিদ্রোহের ফলে এদের আবাসস্থল পুড়ে নষ্ট হয়ে যায়। স্থানীয় বিদ্রোহী নেতা ঘাট থেকে ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন চালান ও ব্রিটিশ অফিসাররা কখনও নাল্লামাল্লা এলাকায় শিকারে যাওয়ার খুব বেশি চেষ্টা করনি। তারপর বহু বছর কেটে গেছে। দেশ স্বাধীন হওয়ার পরেও সেখানে কোন রকম সমীক্ষা হয়েছে বলে জানা যায়নি। ভরত ভূষণ জানান জার্ডনস কোর্সার-এর যোগাযোগের কল ও গান আলাদা ধরনের।

১৯শে আগষ্ট তাঁরা সেশন অনুসারে প্ল্যানটি চূড়ান্ত করেন। তাঁরা সিদ্ধান্ত নেন প্রথম জায়গায় দুই রাত ও আরো ছয়টি বাছাই করা জায়গায় এক রাত করে অনুসন্ধান চালানো হবে। এই সময় আদেশ ও শশাঙ্কের নিজস্ব প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিল। শশাঙ্ক তার বন্ধুকে চিহ্নিত গুগুল আর্থ অবস্থানগুলি ম্যাপ করার জন্য ও ISRO থেকে আবাসস্থল – মানচিত্রের উপর সুপারইম্পোজ করার জন্য বলেন কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা আর হয়ে ওঠেনি। থাঙ্গরাজ ইবার্ড কল ডাউনলোড শেয়ার করেন। শশাঙ্ক জার্ডনস কোর্সার সহ সব রাইনোপ্টিলাস প্রজাতির কল বুঝে নেন। আদেশ এলাকার রাখালদের ও শিকারীদের সাথে আলোচনা করে জানতে পারেন তাঁরা কেউই জার্ডনস কোর্সারএ-র কল শোনেনি বা দেখেনি। তাঁরা সকলে নিজেদের কাজগুলো বুঝে নেন যাতে এই পাখির অনুসন্ধান কৌশল যতটা সম্ভব ভালোভাবে তৈরি করা যায়।

তথ্যসূত্রঃ-

হরিশ থাঙ্গারাজের ব্লগের হোম পেজ থেকে সংগৃহিত


বিশ্ব রঞ্জন গোস্বামী

বিজ্ঞান লেখক। অবসর প্রাপ্ত সরকারী আধিকারীক, পশ্চিম বঙ্গ সরকার   সদ্যস, জীব বৈচিত্র সংরক্ষন একাডেমি, কলকাতা ও বার্ড ওয়াচার্স সোসাইটি।