Environment-পরিবেশFree ArticlesPopular Science-জনপ্রিয় বিজ্ঞানScience News-বিজ্ঞানের টুকরো খবর

সমুদ্রের ঘন আস্তরনের অন্তরালে বিপন্ন পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবাল প্রাচীর!

endangered-coral-reef-barrier-of-australia

মধ্য আমেরিকার ক্রান্তীয় বনাঞ্চল (Tropical Forest) কৃষিযোগ্য ভূমিতে রূপান্তরিত হচ্ছে। স্বাভাবিক ভাবেই কৃষি যোগ্য ভূমির অপসৃত বর্জ্য পদার্থ নিকটবর্তী নদীর জলে এবং কালক্রমে সমুদ্রের জলে মেশে। দেখা যায় এই সমস্ত প্রাকৃতিক বস্তুর বর্ণ ও সংযুক্তি পূর্বের চেয়ে পৃথকই শুধু নয় এগুলি সহজে পচনশীলও নয়।

ভূমি থেকে সমুদ্রে মৃত্তিকা সহ বিভিন্ন দ্রবীভূত প্রাকৃতিক বস্তুর প্রবাহ কার্বন চক্র ও পুষ্টি চক্র নিয়ন্ত্রণে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভূমির ব্যবহারের পরিবর্তনের সাথে সাথে, পরিবাহিত প্রাকৃতিক বস্তুর পরিমানও ধরণের ও পরিবর্তন হতে থাকে। অনিবার্য ভাবে বাস্তুতন্ত্রে এর এক গভীর প্রভাব পড়ে যায়।

আন্তর্জাতিক গবেষকদের একটি টিম মধ্য আমেরিকার রেইন ফরেস্ট অঞ্চলে বৃক্ষছেদনের ফলে উপকূলবর্তী অঞ্চলের পরিবেশে কি পরিনাম হতে পারে তা পরীক্ষা করছেন। এর জন্য তাঁরা বেলিজ (Belize) দ্বীপের উপকূলে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম প্রবল প্রাচীরের (Barrier Reef) ওপর পরীক্ষা চালাচ্ছেন। রেইন ফরেস্ট (Rain Forest) সংলগ্ন অঞ্চল থেকে বিভিন্ন বস্তু নানা ভাবে বাহিত হয়ে নদীর জলে মেশে এবং তারপর সমুদ্রে পড়ে। সমুদ্রে ভাসমান ঐসমস্ত বস্তুগুলি প্রবল প্রাচীরের ওপর কিভাবে প্রভাব বিস্তার করে তা তাঁরা অনুসন্ধান করার চেষ্টা করছেন।

সাদাম্পটন বিশ্ববিদ্যালয়ের (Southampton university) Phd-রত ছাত্রী স্টেসি ফেলগেট (Stacey Felgate) তাঁর গবেষণায় দেখেন দ্রুত নগরায়ন ও কৃষি জমির সম্প্রসারণের জন্য মধ্য আমেরিকার অনেক অঞ্চলের মত বেলিজেও যথেচ্ছ ভাবে বৃক্ষ ছেদন হচ্ছে। আবার উপকূলবর্তী অঞ্চলটির অর্থনীতি অনেকাংশেই মাছ ধরা ও পর্যটনশিল্পের ওপর নির্ভরশীল। জে জি আর বায়োজিওসায়েন্সে(J G R Biogeoscience) প্রকাশিত এক রিপোর্টে তিনি বলেন সাধারণ বনাঞ্চলের তুলনায় কৃষিজমি থেকে অনেক বেশি রঙিন বস্তু নিকটৱৰ্তী নদীতে গিয়ে মেশে। এই বস্তুগুলি নদীর গতিপথ অনুযায়ী বয়ে চলে। স্থিতিশীল হবার সুযোগ পায় না। তাই কোন অণুজীবানু এই সব বস্তুগুলিকে ভেঙে কার্বন ডাই অক্সাইড পরিণত করতে পারে না। বস্তুগুলি ভাসতে ভাসতে যখন উপকূলে পোঁছায় তখনও দেখা যায় এগুলি রঙিন রয়েছে। রঙিন হওয়ার সুবাদে এগুলি সূর্যালোক শোষণ করে নেয়। সমুদ্রের ওপর এক ঘন আস্তরণ তৈরি হয়ে যায়। ফলস্বরূপ সমুদ্রের জীবকূল যেমন সমুদ্র শৈবাল(Sea Grass), প্রবাল(Coral) বৃদ্ধির জন্য পর্যাপ্ত সূর্যালোক থেকে বঞ্চিত হয়। গবেষকরা এবার ভাবনা চিন্তা করেন উপকূলবর্তী বাস্তুতন্ত্রকে কি ভাবে অরণ্যসংহারের হাত থেকে রক্ষা করা যায়।

স্ট্যাসি বলেন স্থলভাগে মানুষের কার্যকলাপের ক্ষতিকারক প্রভাব শুধু বেলিজ নয় , বেলিজের মত পৃথিবীর সমস্ত উন্নয়নশীল উপকূলবর্তী অঞ্চলেই পড়েছে ।বিশেষ করে সেই সমস্ত উপকূলবর্তী অঞ্চল যেখানে উন্নয়নের নামে ব্যাপক বৃক্ষছেদন হচ্ছে, ভূমি ও সমুদ্রের ওপর কি কুপ্রভাব পড়ছে তা দেখা হচ্ছে না বা কোন সুসংহত সংরক্ষণের পরিকল্পনাও গৃহীত হচ্ছে না।

তাই স্টেসি বলেন বেলিজের ওপর তাঁদের গবেষণালব্ধ ফলাফল সামগ্রিক ভাবে পৃথিবীর সমস্ত উন্নয়নশীল উপকূলবর্তী অঞ্চলের ওপরেও প্রযোজ্য।“ওয়ার্ল্ড ওসিয়ান ডে”(World Ocean Day) উপলক্ষে সাদাম্পটন ইউনিভার্সিটি নির্মিত “বিলো দা সারফেস”(Below The Surface) নামক একটি তথ্যচিত্রে স্টেসি ফেলগেট তাঁর গবেষণালব্ধ ফলাফল বর্ণনা করেন এবং সমুদ্রের সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার কারণ বিশ্লেষণ করেন।

এই গবেষণাটি ন্যাশনাল ওসিওনগ্রাফি সেন্টারের ড: ক্ল্যায়ার ইভান্স এর নেতৃত্বে চলা একটি বৃহত্তর প্রকল্পের অংশ। প্রকল্পটি কমনওয়েলথ মেরিন ইকোনোমিজ প্রোগ্রামের অর্থানুকূল্যে চলছে। প্রকল্পটির উদেশ্য হল কমনওয়েলথের উন্নয়নশীল ক্ষুদ্র দ্বীপগুলির মধ্যে নিরাপদ ও সাসটেনেবল(Sustainable) অর্থনীতি কায়েম করা।

এই গবেষণার অন্যান্য সহযোগী সংস্থাগুলি হল – “বেলিজ ইউনিভার্সিটি”, “দা কোস্টাল জোন ম্যানেজমেন্ট অথরিটি এন্ড ইনস্টিটিউট(বেলিজ”),এবং” ইউ কে সেন্টার ফর ইকোলজি এন্ড হাইড্রোলজি “।


অরুন্ধতী চৌধুরী

স্নাতক স্তরে প্রাণীবিদ্যায় অনার্স
স্নাতকোত্তর স্তরে পরিবেশ বিজ্ঞান
ডকুমেন্টারি ফিল্মের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় সম্পর্কিত স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। থিয়েটার মুভমেন্ট থেরাপি নিয়ে কাজ করেন।