বিজ্ঞানের টুকরো খবর – ২: মানুষ ও উদ্ভিদ উভয়ের বন্ধু এক আণুবীক্ষণিক সওয়ারী জীবাণু

মৃত্তিকাস্থিত ব্যাকটেরিয়া স্ট্রেপ্টোমাইসিস (streptomysis) জীবাণুবিজ্ঞানের জগতের এক পরম বন্ধু ও রক্ষাকর্তা হিসেবে পরিচিত। এরা এন্টিবায়োটিক উৎপন্ন করে অনেক ক্ষতিকর জীবাণু থেকে মানুষ ও উদ্ভিদকে রক্ষা করে। কিন্তু এই ব্যাকটেরিয়া বা এদের স্পোরগুলি নিজে থেকে নড়াচড়া করতে পারে না। তাহলে কীভাবে এরা অন্যান্য উদ্ভিদকে প্রয়োজনে রক্ষা করে?
বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন স্ট্রেপ্টোমাইসিস জীবাণুর সুপ্ত (Dormant) স্পোরগুলি (বাদামি বর্ণের) উদ্ভিদের মূলের অগ্রভাগে অবস্থিত চলমান মৃত্তিকাস্থিত জীবাণুর (নীলবর্ণের) চাবুকাকৃতি প্রত্তঙ্গ বা ফ্লাজেলার ওপর চড়ে বসে ও গতিশীল হবার সুযোগ পায়। স্ট্রেপ্টোমাইসিস এর জীবনচক্রে এই ঘটনাটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ISME জার্নালে এই রিপোর্টটি প্রকাশিত হয়।
মাইক্রোস্কোপিক পরীক্ষায় দেখা গেছে স্পোরের গাত্রে রোডলিন (Rodlin) নামের এক ধরনের প্রোটিন সারিবদ্ধভাবে সজ্জিত থাকে। এটি হয়তো চলমান ফ্লাজেলাকে আঁকড়ে ধরে, অনেকটা ভেলক্রোর (velcro) মতো। এই ভাবে স্পোরগুলি ১০ সে. মি অব্দি যেতে পারে। তবে মাটির মধ্যে এরা আরো বেশি দূর যায়।
ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের কিছু প্রজাতি অবশ্য অন্য জীবাণুর ওপর ভর করে চলে। কিন্তু স্পোরের ক্ষেত্রে স্ট্রেপ্টোমাইসিসের স্পোরটিই প্রথম আবিষ্কৃত স্পোর যারা পতঙ্গ বা অন্য ছোট প্রাণীদের গায়ে আটকে অনেক দূর যেতে পারে। চলৎশক্তিহীন ব্যাকটেরিয়াদের ক্ষেত্রে অন্যের উপর সওয়ারী (Hitchhiking) হয়ে বা ভর করে চলাই তাদের পরিবহনের একমাত্র মাধ্যম হিসেবে মনে করা হয়।
সবাই কিন্তু এই ভাবে চলার সুযোগ পায় না। এক গবেষক লিখেছেন , যে সমস্ত ব্যাকটেরিয়া অন্যকে পরিবহনের এই সুযোগটি দেয় তাদের “পায়ের গোড়ালির চারপাশে বল ও চেইনের সাথে তুলনা করা যায়।
তথ্যসুত্রঃ-

অরুন্ধতী চৌধুরী
স্নাতক স্তরে প্রাণীবিদ্যায় অনার্স
স্নাতকোত্তর স্তরে পরিবেশ বিজ্ঞান
ডকুমেন্টারি ফিল্মের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় সম্পর্কিত স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। থিয়েটার মুভমেন্ট থেরাপি নিয়ে কাজ করেন।
