গ্রীন অ্যামোনিয়া আবিষ্কার ও তার বাণিজ্যিকরণ
সার উৎপাদনের এক প্রধান কাঁচামাল হলো অ্যামোনিয়া । কিন্তু দেখা গেছে এক মেট্রিক টন অ্যামোনিয়া উৎপাদন করতে গিয়ে প্রায় ১.৯ মেট্রিক টন গ্রীণহাউস গ্যাস কার্বন ডাই অক্সাইড গ্যাসের নিঃসরণ হয় যা পৃথিবীর মোট কার্বন নিঃসরণের প্রায় ১.৮%।
পরিবেশ দূষণকে রুখতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এক বিশেষ অ্যামোনিয়া যা গ্রীন অ্যামোনিয়া (Green Ammonia) নামে পরিচিত । সবুজ অ্যামোনিয়া বা গ্রীন অ্যামোনিয়া হলো প্রায় দূষণহীন অ্যামোনিয়া।
মোনাশ ঊনিভার্সিটির প্রফেসর ডুগ ম্যাসিফারলন( Doug MacFarlane), ড: ব্রায়ান সূর্যান্ত(Dr. Bryan Suryanto), এবং ড: আলেক্সজান্ডার সিমোনোভ (Alexander Simonov) ,সার উৎপাদনের এক পরিবেশ বান্ধব পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন। এই পদ্ধতিতে ফসফোনিয়াম সল্ট (Phosphonium salt) ব্যবহার করে কার্বন নিঃসরণকে অনেক কমিয়ে নিয়ে আসা সম্ভব।সাইন্স পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্টে বলা হয়েছে রেফ্রিজারেটরের মতো ছোট আকারের রিএক্টরে সাধারণ উষ্ণতা ও চাপে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে ,শুধুমাত্র বাতাস ,জল, ব্যবহার করে তড়িৎ রাসায়নিক বিক্রিয়ায় নাইট্রোজেনের বিয়োজন ঘটিয়ে সরাসরি ভাবে কার্বন শূণ্য অ্যামোনিয়া প্রস্তুত করা সম্ভব।

মোনাস স্কুল অফ কেমিস্ট্রির ড: সূর্যান্ত বলেন প্রোটনের স্যাক্রিফিসিয়াল উৎস পর্যাপ্ত পরিমানে না পাওয়ার ফলে প্রথম দিকে পরীক্ষায় খুব কম পরিমান অ্যামোনিয়া উৎপাদন করা সম্ভব হয়েছিল।কিন্তু পরবর্তীকালে তাঁরা দেখেন ফসফোনিয়াম লবনকে প্রোটনের উৎস হিসাবে ব্যবহার করা যেতে পারে।
২০১৯ সালে বিশ্বে অ্যামোনিয়ার বার্ষিক উৎপাদন ১৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন হয়। বিশ্বে রাসায়নিক ভাবে উৎপাদিত বস্তুর মধ্যে অ্যামোনিয়া দ্বিতীয় স্থান দখল করে। বিশ্বে জনসংখ্যা যে ভাবে বাড়ছে ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যামোনিয়ার বার্ষিক চাহিদা ৩৫০ মিলিয়ন মেট্রিক টন হবে বলে মনে করা হচ্ছে। অ্যামোনিয়ার অতিরিক্ত উৎপাদন করার প্রয়োজন পড়ছে কারণ এটিকে শুধু সার উৎপাদনের জন্যই নয় জ্বালানি হিসাবে ব্যবহার করার ও একটা ক্রমবর্ধমান চাহিদা তৈরী হচ্ছে।
বর্তমানে হ্যাভার -বশ (Haver Bosch) পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া প্রস্তুত করা হয়। কিন্তু এই পদ্ধতিতে বৃহৎ কারখানা বড় রিএক্টর এবং উচ্চ চাপ ও তাপমাত্রা প্রয়োজন হয়। তাছাড়া এই পদ্ধতিতে অ্যামোনিয়া উৎপাদনের সময় প্রচুর পরিমানে কার্বন নিঃসরণ হয়।
কিন্তু এই নতুন পদ্ধতিতে সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় প্রচুর পরিমান উন্নত মানের অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে। প্রফেসর ম্যাক ফারল্যান মনে করেন ২০৫০ সালের মধ্যে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে উন্নত প্রযুক্তিতে তৈরী কার্বণ শূণ্য অ্যামোনিয়াকেই জ্বালানি হিসাবে ব্যাপক ভাবে ব্যবহার করা হবে। আশা করা যায় ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বণ শূণ্য অ্যামোনিয়া উৎপাদন ও রপ্তানী করে ১৫০ বিলিয়ন USD $ আমদানি করা সম্ভব হবে ।
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উত্তরভাগের ফার্মগুলিতে যেখানে পুনর্নবীকরণযোগ্য শক্তি যেমন সৌর ও বায়োবীয় বিদ্যুৎশক্তি ব্যবহার করা হয় সেখানে নতুন প্রযুক্তিতে অ্যামোনিয়ার উৎপাদন ও প্রয়োগ করা যাবে।।
এই নতুন আবিষ্কৃত প্রযুক্তির বাণিজ্যিক ব্যবহারের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে জুপিটার আয়নিকস P/L কে।
মোনাশ উনিভার্সিটির ফ্যাকাল্টি অফ সায়েন্সের ডিন, প্রফেসর জর্ডন নাশ বলেন এই আবিষ্কার ভবিষ্যতের সাস্টেনেবল ফুয়েল তৈরির ক্ষেত্রে এক মস্ত বড় পদক্ষেপ।আন্তর্জাতিক মানের গবেষকদের এই আবিষ্কার অস্ট্রেলিয়াকে অ্যামোনিয়া অর্থনীতির এক পথপ্রদর্শক হিসাবে পরিচিতি দেবে।

অরুন্ধতী চৌধুরী
স্নাতক স্তরে প্রাণীবিদ্যায় অনার্স
স্নাতকোত্তর স্তরে পরিবেশ বিজ্ঞান
ডকুমেন্টারি ফিল্মের জন্য বিভিন্ন শিক্ষামূলক বিষয় সম্পর্কিত স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। থিয়েটার মুভমেন্ট থেরাপি নিয়ে কাজ করেন।
